জ্যাকি গুজমান একজন গ্ল্যামারাস পানামা সমর্থক। তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের দেশকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত ছিলেন। পানামা তাদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে। তবে শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই দলটি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করে ফেলে। হতাশাজনক পারফরম্যান্স সত্ত্বেও পুরো পথজুড়ে দলটিকে সমর্থন দিয়ে গেছেন গুজমান। মডেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত এই তারকা জাতীয় দলের প্রতি নিজের সমর্থন প্রকাশ করতে কখনোই সংকোচ বোধ করেন না। তিনি ইনস্টাগ্রামে ঘানার বিপক্ষে পানামাকে সমর্থন জানিয়ে নিজের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তিনি লিখেছেন, আজ ওই ছেলেরা মাঠে তাদের হৃদয় উজাড় করে দিয়েছে। কী দারুণ উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপ! আমার অশালীন ভাষার জন্য দুঃখিত। পানামারই জেতা উচিত ছিল।
জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের পাশাপাশি নিজের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশন সচেতনতার বিষয়েও তিনি সমানভাবে আত্মবিশ্বাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই আকর্ষণীয় পোশাকে ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের মুগ্ধ করেন। ৩৭ বছর বয়সী গুজমানের ইনস্টাগ্রামে ১২ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। এছাড়া টিকটকে তার আরও ৭৭ হাজার অনুসারী। সেখানে তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার নানা ঝলক শেয়ার করেন। এর মধ্যে রয়েছে রৌদ্রস্নাত সমুদ্রসৈকতে বিকিনি পরিহিত ছবি এবং শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলা পোশাকে তোলা আলোকচিত্র। এই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন পোশাক ও প্রসাধনী ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যৌথ প্রচারণামূলক কাজ করে থাকেন। সংগীত জগতেও তার সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তিনি পানামার ডিজে দিমেলো ফ্লো’র লা দেমোরা শিরোনামের গানের মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংগীতশিল্পীর স্পটিফাইয়ে প্রতি মাসে ৬০ লাখেরও বেশি শ্রোতা রয়েছে। একসময় গুজমানের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে পরে গুজমান স্পষ্ট করে জানান, তাদের সম্পর্ক কেবল পেশাগত কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চলতি বছরের শুরুতে নিজ দেশ পানামায় অনুষ্ঠিত বিখ্যাত লাস তাবলাস কার্নিভাল-এ অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান গুজমান। সেখানে তিনি ঝলমলে পোশাক পরে একটি শোভাযাত্রার ভাসমান মঞ্চের ওপর পারফর্ম করেন। তার সাজসজ্জার মধ্যে ছিল বিশাল পালকের মুকুট এবং ডানার মতো অলঙ্করণ। এই উৎসবের আনন্দও যেন ম্লান হয়ে যায়, যখন পানামা চলতি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
গত বছরের নভেম্বরে মধ্য আমেরিকার তুলনামূলক দুর্বল দল পানামাএল সালভাদরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে। সেদিন গ্যালারিতে পানামার রঙে সজ্জিত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন গুজমানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বসিত বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, আগামীকাল কেউ যদি কাজে দেরি করে, তাহলে বুঝে নিও! ৫০তম স্ট্রিটে দেখা হবে! আমার পানামা বিশ্বকাপে যাচ্ছে!
এরপরের কয়েক মাসেও তার বিশ্বকাপ উন্মাদনা একটুও কমেনি। গুজমান নিজের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে মনে হওয়া ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তাকে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে দেখা যায়। স্কোরবোর্ডে তখন লেখা ছিলÑ পানামা ৩, ইংল্যান্ড ১। শনিবারের ম্যাচে পানামা সত্যিই এমন কিছু করতে পারবে এবং টমাস টুখেল-এর পরিকল্পনায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে- এমন আশাই করেছিলেন জ্যাকি গুজমান।
