ইরান যুদ্ধ: নয়াদিল্লির হার নাকি পাকিস্তান সত্যিই লাভবান হলো?

ইরান যুদ্ধ: নয়াদিল্লির হার নাকি পাকিস্তান সত্যিই লাভবান হলো?

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিম এশিয়ায় সম্প্রতি সমাপ্ত ১০৭ দিনের সংঘাত, যার পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সেটিকে একটি শান্তি চুক্তিতে রূপ দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যা আধুনিক ভূরাজনীতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করায় এবং যুদ্ধকালীন উচ্চতা থেকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীলতার দিকে নেমে আসায় বিশ্ব অর্থনীতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। তবে এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী যুদ্ধের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করলে ভুল মূল্যায়ন, অসম প্রতিরোধক্ষমতা এবং কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের একটি জটিল চিত্র সামনে আসে।

নয়াদিল্লির দৃষ্টিকোণ থেকে এই সংঘাতের কাঠামোগত ফলাফল বিশ্লেষণ করলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনোযোগ পড়ে সরাসরি জড়িত পক্ষগুলোর ওপর- ওয়াশিংটনের ব্যর্থ বোমাবর্ষণ অভিযান এবং সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা, হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের অসম প্রতিরোধমূলক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা এবং ইসরাইলের আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপর কৌশলগত আঘাত হানার সাফল্য, যা ইরানের পূর্ণ আত্মসমর্পণ আদায়ে ব্যর্থতার কারণে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।

কিন্তু এই তাৎক্ষণিক কৌশলগত বাস্তবতার আড়ালে আরও সূক্ষ্ম, কিন্তু সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক মঞ্চ বিদ্যমান ছিল। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিগুলো সংকট মোকাবিলায় নিজেদের অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করেছে। যার ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভূমিকাগুলোর নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে।

পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ভারতের নীতি
দশকের পর দশক ধরে পশ্চিম এশিয়ায় নয়াদিল্লির পররাষ্ট্রনীতি একটি সূক্ষ্ম ও সুচিন্তিত জোটনিরপেক্ষ অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে ‘বহুমুখী সমন্বয়’ (মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট) নামে পুনর্ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই কৌশল ভারতের জন্য ইরানের সঙ্গে গভীর সভ্যতাগত, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও সম্ভব হয়েছে। এই কৌশলগত ভারসাম্য কেবল একটি নৈতিক অবস্থান ছিল না; বরং ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজনের কারণে এটি ছিল একটি বাস্তববাদী অপরিহার্যতা।

তবে সাম্প্রতিক সংঘাত এই নীতির একটি দুর্বলতা উন্মোচন করেছে বলে মনে হয়। কারণ নয়াদিল্লি যেন তার ঐতিহাসিক ভারসাম্য নষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অক্ষের দিকে অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়েছিল। এর একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরাইলি সমকক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শনের বিষয়টি। সংকটের সবচেয়ে উত্তপ্ত পর্যায়ে ঐতিহ্যগত নিরপেক্ষ অবস্থান পরিত্যাগ করে ভারত এমন একটি ঝুঁকি নিয়েছে, যাতে তাকে স্বাধীন বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তে একটি পক্ষবিশেষের সমর্থক হিসেবে দেখা হতে পারে।

এই আপাত কূটনৈতিক ভুলের তাৎক্ষণিক কৌশলগত মূল্যও দিতে হয়েছে। ভূরাজনীতিতে সম্ভাব্য কোনো মধ্যস্থতাকারী পিছু হটলে, সেই শূন্যস্থান দ্রুতই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি পূরণ করে। সংঘাতের এক পক্ষের সঙ্গে নিজেদের কূটনৈতিক ও বক্তব্যগত অবস্থান ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে নয়াদিল্লি সম্ভবত তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে। ফলে যুক্তি দেয়া হচ্ছে যে, ভারত পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতির মর্যাদাপূর্ণ ও প্রভাবশালী উচ্চ আসন- বিশেষত জেনেভায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা- ইসলামাবাদের কাছে ছেড়ে দিয়েছে।

যে দেশ দীর্ঘদিন ধরে তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং বিভক্ত বৈশ্বিক ব্যবস্থার সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলার সক্ষমতা নিয়ে গর্ব করেছে, তাদের কাছে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে- যাকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসারী এবং চীনের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে অবজ্ঞা করা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মুখ্য ভূমিকায় দেখতে হওয়া অনেকের কাছে একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি দেখিয়ে দেয়, বিশেষত এমন এক অঞ্চলে যেখানে ভৌগোলিক বাস্তবতা অপরিবর্তনীয় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য, সেখানে স্বল্পমেয়াদি জোটগত অবস্থান গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ধারাবাহিকতার তুলনায় কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে- সরকারগুলোর আদর্শিক বা ধর্মীয় চরিত্র যেমনই হোক না কেন।

মধ্যস্থতাকারী নাকি বার্তাবাহক?
তবে ইসলামাবাদের আকস্মিক উত্থানকে একটি স্বাধীন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপনের বর্ণনাকে গভীর সংশয়ের সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যদিও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং শত্রুতা বন্ধের ঘোষণা দেয়ার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকাকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে, সংকটজুড়ে তাদের কূটনৈতিক আচরণ আরও জটিল একটি বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি পাকিস্তানি নেতৃত্বের অত্যধিক দৃশ্যমান প্রশংসা- যা অনেকের কাছে প্রায় তোষামোদপূর্ণ বলে মনে হয়েছে এবং ওয়াশিংটনে প্রস্তুত করা একটি বিবৃতি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রকাশ করার বিব্রতকর ঘটনা (যেখানে ভুলবশত প্রকাশিত শিরোনাম ছিল ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য খসড়া’) তাদের তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতা’র সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে।

প্রকৃত মধ্যস্থতার জন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিরোধের উভয় পক্ষ থেকে সমান ব্যবধান রক্ষা করা। কিন্তু ওয়াশিংটনের প্রতি ইসলামাবাদের প্রদর্শিত আনুগত্যপূর্ণ আচরণ দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত করে যে, তারা মোটেই নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সালিশকারীর ভূমিকায় ছিল না। বরং তাদের আচরণ একটি সুবিধাবাদী প্রতিনিধির প্রচলিত সংজ্ঞার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়- এমন একটি পক্ষ, যার পূর্বনির্ধারিত আনুগত্য রয়েছে এবং যে তার পরাশক্তিধর পৃষ্ঠপোষকের অনুকম্পা লাভের মাধ্যমে নিজ দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতাগুলো লাঘব করতে আগ্রহী। ফলে আরও নিবিড় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসলামাবাদ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে, এমন দাবি খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়।

একজন প্রকৃত মধ্যস্থতাকারীর এমন স্বাধীন প্রভাবক্ষমতা থাকে, যার মাধ্যমে তিনি বিরোধের উভয় পক্ষের আচরণ পরিবর্তন করতে পারেন এবং আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান একটি স্বতন্ত্র শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীর চেয়ে বরং একটি সুবিধাজনক কূটনৈতিক বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে। অর্থাৎ এমন একটি যোগাযোগের মাধ্যম, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ চ্যানেলবিহীন দুই প্রতিপক্ষ নিজেদের অবস্থান থেকে সম্মান রক্ষা করে উত্তেজনা প্রশমনের বার্তা আদান-প্রদান করতে পেরেছে। ওয়াশিংটন এমন একটি সংঘাতে আটকে পড়েছিল, যা ছিল অভ্যন্তরীণ আইনসভা বা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই শুরু করা, জনসমর্থনহীন, অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী এবং আইনগতভাবে বিতর্কিত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন ছিল এমন একটি গোপন যোগাযোগের পথ, যার মাধ্যমে তারা সংকট প্রশমনে নিজেদের নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে, তেহরান হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার সক্ষমতা প্রদর্শন করলেও, লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে অভ্যন্তরীণভাবে তীব্র চাপের মুখে ছিল। তারও এমন একটি অবতরণস্থল প্রয়োজন ছিল, যেখানে সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে উত্তেজনা হ্রাসের পথ খুঁজে পাওয়া যায়।

কেন পাকিস্তানকে বেছে নেওয়া হয়েছিল
এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদকে বেছে নেয়া হয়েছিল তার কৌশলগত গুরুত্ব বা নৈতিক কর্তৃত্বের কারণে নয়, বরং নির্ভরযোগ্য বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে তার উপযোগিতার কারণে। পাকিস্তান এমন একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপনের রাজনৈতিক মূল্য না দিয়েই নিজেদের প্রস্তাব পাঠাতে এবং জবাব গ্রহণ করতে পেরেছে- যে দেশটিকে তারা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে নিন্দা ও দানবায়নের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। এই ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য একটি সম্মানজনক প্রস্থান কৌশল পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দক্ষিণ এশীয় অংশীদারও নিজেকে বৈশ্বিক রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকায় উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রতি যে অতিরিক্ত প্রশংসাবাক্য বর্ষণ করা হয়েছে, তা মূলত একটি লেনদেনভিত্তিক মূল্যপরিশোধ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এটি এমন এক বিকল্প প্রতিনিধির আচরণ, যে তার পৃষ্ঠপোষকের কাছে নিজের গুরুত্ব প্রমাণে আগ্রহী এবং আশা করে যে ভবিষ্যতে তার কূটনৈতিক সেবার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করবে।

বদলে যাওয়া কূটনৈতিক বাস্তবতা
সবশেষে বলা যায়, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটের বিস্তৃত বিশ্লেষণ দেখায় যে যদিও অস্ত্রের গর্জন আপাতত থেমে গেছে এবং পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নেয়ার জন্য একটি নাজুক ৬০ দিনের কাঠামো গড়ে উঠেছে, তবুও কূটনৈতিক মানচিত্র ইতিমধ্যে পুনর্গঠিত হয়েছে। নয়াদিল্লির ঐতিহ্যগত নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসা একটি কঠোর বাস্তবতা সামনে এনেছে- মহাশক্তির রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে দেখা মাত্রই বৈশ্বিক সেতুবন্ধনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রভাব দ্রুত ক্ষয়ে যায়।

ভারত এমন একটি দীর্ঘদিনের সুনাম ও কৌশলগত সম্পদ বিসর্জন দিয়েছে, যার বিনিময়ে খুব সামান্য বাস্তব কৌশলগত লাভ অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের এই মুহূর্তের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসাকে মধ্যস্থতার সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বাস্তবে এটি ছিল প্রতিনিধিনির্ভর কূটনীতির একটি অনুশীলন। এটি দেখিয়েছে যে, কোনো রাষ্ট্র প্রকৃত কৌশলগত স্বাধীনতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক আলোচনার উচ্চপর্যায়ের টেবিলে স্থান করে নিতে পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রটি প্রকৃতপক্ষে একটি পশ্চাদপসরণরত পরাশক্তির জন্য অত্যাধুনিক একটি ‘সামনের মুখ’ বা প্রতিনিধির ভূমিকাই পালন করে। ওয়াশিংটন হয়তো এর বিনিময়ে পাকিস্তানকে অতিরিক্ত সামরিক বা আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। তবে তা পাকিস্তানের সামগ্রিক ভাগ্য পরিবর্তনকারী কোনো ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন এখন জেনেভায় চূড়ান্ত চুক্তির খুঁটিনাটি নির্ধারণের কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- অকালেই নিরপেক্ষতা পরিত্যাগ করা এবং আগ্রহভরে অন্যের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার ভূমিকা গ্রহণ করা- দুটোরই দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর গভীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। ভারতের জন্য সুস্পষ্ট শিক্ষা হলো প্রকৃত বহুমুখী সমন্বয় বা মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট নীতিতে ফিরে যাওয়া। আর পাকিস্তানের জন্য শিক্ষা হবে বৈশ্বিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে নিজেদের অতিরঞ্জিত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা।

চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে পাকিস্তান, কাতার, ওমান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীরা অবশ্যই কিছু প্রশংসা পেতে পারে। কিন্তু সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের জন্য একটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের কল্পনা করা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরের বিষয়। বিশ্ব স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারে, একজন স্বতন্ত্র ও স্বাধীন কূটনৈতিক অভিনেতা এবং কেবল বার্তা বহনকারী একজন দূতের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

(শশী থারুর ২০০৯ সাল থেকে কেরালার তিরুবনন্তপুরম আসনের সংসদ সদস্য। তিনি একজন খ্যাতিমান লেখক এবং সাবেক কূটনীতিক। অনলাইন এনডিটিভি থেকে তার লেখার অনুবাদ)

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন