চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড হচ্ছিল। সুপারস্টাররা চমকের পর চমক সৃষ্টি করছিলেন। অঘটন ছিল অনেকটাই অনুপস্থিত। বৃহস্পতিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অঘটনটা ঘটেই গেল। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি হেরে গেল ২-১ গোলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ইকুয়েডরের কাছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক খেলাটি দেখলেন। উপভোগ করলেন। কিন্তু জার্মানির কান্না দেখে কে! হাজার হাজার জার্মানভক্ত এই পরাজয়ের জন্য একদম প্রস্তুত ছিলেন না। ফুটবলপণ্ডিতরাও এটা অনুমান করতে পারেননি। প্রেডিকশনের বাইরেই ছিল। কারণ এর আগে দুইবার ইকুয়েডরের মুখোমুখি হয় জার্মানি। দু’বারই পরাজিত হয় ইকুয়েডর। একবার বিশ্বকাপে ২০০৬ সনে। আরেকবার ২০১৩ সনে এক প্রীতি ম্যাচে। খেলার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় জার্মানির লিরয় সানে গোল করে বসেন। এরপর কী হলো। ইকুয়েডর তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো। মাত্র ৭ মিনিট পরেই নিলসন অ্যাঙ্গুলো গোল পরিশোধ করে খেলার শাসন তাদের হাতে নিয়ে যান। মাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তখনই মনে হচ্ছিল-নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এবং সেটাই ঘটলো। ফুটবলে অঘটন নতুন কোনো বিষয় নয়। '৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা হেরে গিয়েছিল ক্যামেরুনের কাছে। '৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা তখন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন। তার যেন কিছুই করার ছিল না। এবারের ত্রিদেশীয় বিশ্বকাপে এমন কোনো নাটকীয় কিছু ঘটেনি। ফলাফল যা কাম্য তাই হয়েছে। জার্মানিকে হারানোর পর ইকুয়েডর খেলার সুযোগ পেয়ে গেল পেছন থেকে। জার্মানির সুযোগ রয়েছে। তারাও খেলবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। কিন্তু কলঙ্কের দাগ তো লেগেই গেল। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা হয়তো বা ইকুয়েডরকে আমলেই নেননি। সহজেই জয় পেয়ে যাবে এমনটাই হয়তো ভেবেছিলেন। খেলার ৯ মিনিটের মাথায় গোল করে চমকে দেয় ইকুয়েডর। ৭৭ মিনিটে ইকুয়েডরের গঞ্জালো প্লাতার দ্বিতীয় গোলে মাঠের চিত্র একেবারেই পাল্টে যায়। জার্মানি অনেক চেষ্টা করেও পরে আর খেলায় ফিরে আসতে পারেনি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো-একজন মহিলা রেফারি খেলাটি পরিচালনা করছিলেন। সুন্দর এবং চমৎকার দক্ষতায় খেলা পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন টরি পেনসো।
শেষ পর্যন্ত অঘটন ঘটেই গেল
মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী
বিশ্বকাপ ২০২৬
৪ ঘন্টা আগে
২৬ জুন (শুক্রবার), ২০২৬, ৬ঃ১৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
