প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর/সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী চীন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর দুই দেশ ১৩টি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে। এতে বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং নতুন খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বা জিডিআইতে যুক্ত হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের দিকটিও এবার স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
গতকাল দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এটিকে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন। এ দিন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং এবং পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইং। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করেন চীনভিত্তিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান মেগা রিচ ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা অংশীদার কেভিন উ, দেশটির শীর্ষস্থানীয়
টেক্সটাইল ও পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হান্ডা গ্রুপের চেয়ারম্যান হান চুন এবং শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান চেরি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইন টংইউয়ে।
গতরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুকে জানানো হয়, চীনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
গ্রেট হলে লালগালিচা সংবর্ধনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রায় গ্রেট হলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী।
শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। অভিবাদন মঞ্চে তারেক রহমান ও লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর
সুসজ্জিত একটি চৌকস দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।
সংবর্ধনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম চীন সফর। এর আগে তারেক রহমান ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন। তিনি ওই সময়ে এই গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীর লালগালিচা সংবর্ধনাতেও উপস্থিত ছিলেন।
১৩ সমঝোতা স্মারক
বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তাঁদের উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ সহায়তা, জিডিআই, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা, চীনের ভাষা শিক্ষা এবং গণমাধ্যমের নানা পরিসরে সহায়তা।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানির সক্ষমতা বাড়িয়ে যেন চীনে আমরা রপ্তানি করতে পারি, সেটা নিয়ে কথা হয়েছে। চীনের কাছ থেকে যে ছাড়কৃত ঋণ বাংলাদেশ নিয়ে থাকে, সেটার সুদের হার কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা সই হয়েছে। তিনি জানান, বিডার পাশাপাশি পৃথকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা এবং মোংলায় কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে কীভাবে বাংলাদেশে চীনের নতুন কারখানা ও উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা যায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তা নিয়েও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
বিএনপি ও সিপিসির সমঝোতা স্মারক
বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাইয়ে গতকাল সকালে বিএনপি ও সিপিসির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, বিএনপির পক্ষে দলের যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
দুই দলের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো সমঝোতা স্মারক সই হলো।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির মন্ত্রীর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গতকাল সকালে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।
লিউ হাইশিং বলেন, চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক। তিনি পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তায় সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাইয়ে ওই বৈঠক হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা ও পানিসম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেশে চলমান নদীখনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বই উপহার দেন।
চীনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ কার্যালয় হবে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করতে শিগগির দেশটিতে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু করা হবে।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে চীনের বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল সকালে দিয়াওইউতাইয়ে বিডা আয়োজিত এই সম্মেলনে চীনের ১২৫ জন ব্যবসায়ী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে উপস্থাপনা দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ। তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ও ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আওতায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করতে শিগগির চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে।
চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আজ বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরের শেষ দিনে আজ শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ১০টায় গ্রেট হল অব পিপলে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি এ দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।
আজ বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। ওই সফর শেষ করে তিনি গত সোমবার রাতে পৌঁছান চীনের দালিয়ান শহরে। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে গত বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বেইজিং পৌঁছান।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা খাতে দুর্নীতি বেড়েছে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে ২০২৩ সালে সরকারের সেবা খাতে ঘুষসহ দুর্নীতির যে পরিস্থিতি ছিল, তা ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও বেড়েছিল।
দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি ১৮টি খাত ও সেবার ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
টিআইবি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে দেশের সেবাগ্রহীতাদের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশই কোনো না কোনো খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। সংস্থাটির ২০২৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। সেবা খাতের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত পাসপোর্ট। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে ঘুষের শিকার হয়েছিলেন ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ সেবাগ্রহীতা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশে।
বণিক বার্তা
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেন করতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে ৩০৯ কোটি টাকা।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করতে চায় সরকার। প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত ২৩২ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে প্রায় ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।
সে হিসেবে প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়বে প্রায় ৩০৯ কোটি টাকা।
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান চার লেনের সড়ককে উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।
নিরবচ্ছিন্ন যানচলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়কজুড়ে ইন্টারচেঞ্জ, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাসসহ বিভিন্ন গ্রেড-সেপারেটেড অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের অর্থায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলের।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষ্যে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আগামী এক জুলাই থেকে পাঁচ অগাস্ট পর্যন্ত তাদের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ, মানববন্ধন, বিভাগীয় সমাবেশ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটক ভিসা ফের চালু হচ্ছে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ফের পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে মেডিকেল ভিসা আগের মতো অব্যাহত থাকবে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে এ ঘোষণা দেন।
এর আগে, সকালে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা এই পাঁচটি কেন্দ্র থেকে ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য শহরেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যায় ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম।
এ সময় বিভিন্ন শহরে অবস্থিত অন্তত পাঁচটি ভিসা সেন্টার হামলার শিকার হয়। এরপরই নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা কার্যক্রম সীমিত করে ভারতীয় হাইকমিশন।
দেশ রূপান্তর
দেশ রূপান্তরের শেষ পাতার শিরোনাম ‘ডেঙ্গু রোগী এক মাসে বেড়ে চারগুণ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসের তুলনায় চলতি জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়েছে। যে হারে ভর্তি বাড়ছে তাতে সামনে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে ৫ হাজার ৫১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।
২০২৫ সালের এই সময়ে ভর্তি হয়েছিল ৮ হাজার ৮৭০ জন। মৃত্যু হয়েছিল ৩৬ জনের। সেই তুলনায় এবার এখনো ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কম।
এবার জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৪১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ এবং জুনের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩১৮ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার আগাম প্রস্তুতি ভালো। সচেতনতা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাওয়ায় এখনো আক্রান্ত কম। তবে মাসিক বৃদ্ধির হার এবার বেশি। এভাবে বাড়তে থাকলে একটা সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
সেজন্য যেসব জায়গায় রোগী বেশি, সেসব এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকোপ ঠেকানোর পরামর্শ তাদের।
যুগান্তর
যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কম।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সামান্য ব্যবধানে পরপর দুদিন ঢাকায় মৃদু ও কাঁপুনি দিয়ে ভূমিকম্প জানান দিয়ে যায় সামনে এরকম আরও খারাপ কিছু হয়তো অপেক্ষা করছে। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৃদু থেকে মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই হচ্ছে। এতে করে সবার মাঝে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিক মাত্রা ও তীব্র ভূমিকম্প হওয়া অমূলক নয়। ৬-৭ মাত্রার একটি তীব্র ভূমিকম্প হলে রাজধানীর অসংখ্য ভবন ধসে পড়তে পারে। ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে তাতে। আর্থিকভাবে এই ক্ষতির পরিমাণ হবে কয়েক বিলিয়ন ডলার।
আর এই ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ হিসাবে তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল ভবন তৈরি এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। প্রকৌশল বিদ্যায় একটি কথা আছে, ‘ভূমিকম্প মানুষ মারে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে মারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প ঘটে। কম্প্রিহেনসিভ আর্থকোয়াক ক্যাটালগের (কমক্যাট) ক্যাটালগ ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ৭ বা তার অধিক মাত্রার ১৫-১৬টি বড় ভূমিকম্প ঘটে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী যুগান্তরকে বলেন, দেশে ৭ বা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৮৬৯ সালে আসামের কাছাড়ে ৭.৫, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল আর্থকোয়েক ৭.১ (যে ফল্টের ওপর ভিত্তি করে যমুনা সেতুর ডিজাইন করা হয়েছে), ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৫০-২০০ বছরের চক্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প এখন যে কোনো সময় ঘটতে পারে।
