খেলা দেখেই ৫০,০০০ ডলার পাবেন তারা

খেলা দেখেই ৫০,০০০ ডলার পাবেন তারা

ফন্ট সাইজ:

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন ছয়টি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা টেলিভিশনের সামনে বসে উপভোগ করা এক ধরনের পূর্ণকালীন চাকুরির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে বসে ঠিক এই কাজটিই করছেন কেভিন আকোটো এবং অস্টিন ফ্র্যাঙ্কলিন নামের দুই ফুটবল সমর্থক। বিশ্বকাপের সবকটি ম্যাচ দেখার জন্য তাদের দুইজনকে ৫০,০০০ ডলার দেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ফক্স ওয়ানের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচার্স’ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই দুই সমর্থক টাইম স্কয়ারের মাঝখানে তৈরি একটি কাচের তৈরি বিশেষ কিউবিকলের ভেতর বসে খেলা দেখছেন।

বাইরে থেকে সাধারণ পথচারী ও দর্শনার্থীরা তাদের খেলা দেখার দৃশ্য দেখতে পারেন। এই বিশেষ ঘরের ভেতরে রয়েছে আরামদায়ক সোফা, দুটি বড় পর্দার টেলিভিশন, টেবিল ফুটবল খেলার ব্যবস্থা এবং প্রচুর পরিমাণে শুকনো খাবার ও জলখাবার। ফ্লোরিডার একজন সাধারণ রাঁধুনি কেভিন এবং ফিলাডেলফিয়ার ইনফ্লুয়েন্সার অস্টিন হাজার হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। খেলা দেখার পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব হলো সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের জন্য বিভিন্ন কন্টেন্ট বা বিনোদনমূলক উপাদান তৈরি করা। টানা খেলা দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে কেভিন জানান, এটি অত্যন্ত আনন্দের হলেও প্রতিদিন এত ম্যাচ দেখা কিছুটা ক্লান্তিকর, তাই তারা নিজেদের মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

অস্টিন এই অভিজ্ঞতাকে একটি ম্যারাথনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সোফায় বসে খেলা দেখা সহজ কাজ মনে হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এটি করা বেশ পরিশ্রমের। তবে তাদের এই কাচের ঘরে ঘুমাতে হয় না, শিফট বা দায়িত্বের সময় শেষ হলে তারা যার যার বাড়ি ফিরে যান। খেলা দেখার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও উপভোগ করছেন। যেমন, আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ দেখার সময় তারা দেশটির ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ খাচ্ছিলেন এবং ঠিক তখনই লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি ভাঙেন। টাইম স্কয়ারে খেলা দেখার ফাঁকে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন।

অস্টিন জানান, বিশ্বজুড়ে আসা মানুষের সঙ্গে ফুটবল ও সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলাই তার সবচেয়ে পছন্দের অংশ। অনেক সময় খেলায় এতটাই মগ্ন হয়ে যান যে, চারপাশে টাইম স্কয়ারের হাজার হাজার মানুষ তাদের দেখছেন, সেটিও তারা ভুলে যান। বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন নিয়ে কেভিনের বাজি স্পেনের পক্ষে। তবে নিজের শিকড়ের কারণে তিনি আমেরিকা ও ঘানাকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে অস্টিন সমর্থন করছেন নরওয়ে এবং ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্দকে। এদিকে এই ব্যতিক্রমী চাকুরি নিয়ে সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নরওয়ে থেকে আসা বাহান্ন বছর বয়সী সমর্থক এইমুন্ড লিল্যান্ড এবং তার পনেরো বছর বয়সী কন্যা কামিল মনে করেন, কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া টানা সবকটি ম্যাচ দেখা এক ধরনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। আঠারো বছর বয়সী ম্যাথিউ মেন্দেজ জানান, কাচের ঘরে একা না থেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখাই বিশ্বকাপের আসল আনন্দ। তবে বিশ বছর বয়সী মিগুয়েল সানচেজ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার মতে, মাঠে গিয়ে খেলা দেখার চেয়েও ঘরে বসে টাকা পেয়ে খেলা দেখা অনেক বেশি সৌভাগ্যের ব্যাপার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন