অপেক্ষাটা দীর্ঘ। বড্ড দীর্ঘ। প্রায় তিন বছর ধরে ব্রাজিলের কোটি কোটি সমর্থক অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিলেন এই মুহূর্তটার দিকে। কখন হলুদ জার্সি গায়ে আবার মাঠে পা রাখবেন নেইমার জুনিয়র। বৃহস্পতিবার রাতে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গ্যালারিতে তখন উন্মাদনার ঢেউ। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরলেন নেইমার। তবে শুধু নেইমারের প্রত্যাবর্তনই নয়, এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা টুর্নামেন্টের তিন গ্রুপ ম্যাচেই গোল করে নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ 'সি'-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে কার্লোস আনচেলত্তির ব্রাজিল। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সেলেসাওদের। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে মরক্কো।
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই স্কটল্যান্ডকে ধাক্কা দিলেন ভিনিসিয়ুস। সপ্তম মিনিটে স্কটিশ রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন তিনি। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনা গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানের পাস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। বল পায়ে পেয়ে রায়ান শট নিলে গান সেটা ঠেকান, কিন্তু ফাঁকা পোস্টে দৌড়ে গিয়ে জাল খুঁজে নিতে ভুল করেননি চতুর ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিল এগিয়ে গেল ১-০। এরপর নাটকীয় মুহূর্ত। আবারো গোল পেলেন ভিনি। কিন্তু ভিএআর কেড়ে নিল সেই আনন্দ। দেখা গেল, স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যাক হেনরির কাছ থেকে অবৈধভাবে বল নিয়ে সেই গোল করেছিলেন ব্রাজিল তারকা। বাতিল হয়ে গেল গোল। হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাঁয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভিনি। এই বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ গোল। বিরতিতে যাওয়ার আগেই ব্রাজিল এগিয়ে ২-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণ ছিল অটল। ৬০ মিনিটে ম্যাচের পরিণতি নিশ্চিত করেন মাথেস কুনিয়া। ব্রুনো গিমারাঁয়েসের আড়াআড়ি পাস পেয়ে কোণাকুণি শটে পোস্টে বল জড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড। স্কোর হলো ৩-০। এই বিশ্বকাপে কুনিয়ার তৃতীয় গোল। হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। তারপর এলো সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ৭৬ মিনিটে চেঞ্জবোর্ড উঠলো, কুনিয়ার বদলি মাঠে আসছেন নেইমার। গ্যালারি ফেটে পড়লো উল্লাসে। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে নেইমার শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর চোটে দীর্ঘদিনের জন্য ছিটকে পড়েন সেলেসাওর ১০ নম্বর জার্সির অধিকারী। দিনের হিসাবে ৯৮১ দিন পর আবারো জাতীয় দলে ফিরলেন তিনি। এদিন মাঠে নেমে একটি বিশেষ রেকর্ডেও ভাগ বসালেন নেইমার। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরে পেলে ও রিভালদোর পাশে এখন তিনি। প্রত্যেকের ১৪টি করে ম্যাচ খেলা হলো এই মর্যাদাপূর্ণ নম্বর গায়ে জড়িয়ে।
তিন গ্রুপ ম্যাচেই গোল করে ভিনিসিয়ুস নাম লেখালেন বিশেষ ক্লাবে । ১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্জিনিও, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রোমারিও এবং ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো নাজারিও ও রিভালদো—এই চার কিংবদন্তির পরই এখন ভিনির নাম। আরেকটি কাকতালীয় বিষয় হলো, সেই তিনটি বিশ্বকাপেই শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। তাহলে কি এবারও বিশ্বকাপ পাচ্ছে সেলেসাওরা…?
