ফিনিক্সের মতো ফিরছেন নেইমার, নামছেন বিশেষ বুটজুতা পরে

ফিনিক্সের মতো ফিরছেন নেইমার, নামছেন বিশেষ বুটজুতা পরে

ফন্ট সাইজ:

ফুটবলের মাঠে যতবার তাকে শেষ ভাবা হয়েছে, ততবারই তিনি ফিরে এসেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরছেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তার মাঠে নামার সম্ভাবনার কথা জানান কোচ কালোর্স আনচেলেত্তি। আর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নেইমারের পায়ে থাকবে একজোড়া সম্পূর্ণ নতুন, বিশেষভাবে তৈরি বুট। ব্রাজিলের শীর্ষ গণমাধ্যম গ্লোবো এ খবর বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছে।


নেইমারের জাতীয় দলে শেষ ম্যাচটি ছিল ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচে উরুগুয়ের মন্টেভিডিওতে ব্রাজিল ২-০ গোলে হেরেছিল। সেই ম্যাচের প্রথমার্ধেই ঘটে বিপর্যয়। বাম হাঁটুতে মারাত্মক চোট পান নেইমার। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট এবং মেনিসকাস—দুটোই ছিঁড়ে গেছে। শুরু হয় দীর্ঘ পুনর্বাসনের কঠিন যাত্রা। যন্ত্রণাময় সেই অধ্যায় পেরিয়ে, প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলের হয়ে আবারো সবুজ গালিচায় ফেরার দোরগোড়ায় তিনি। শুধু ফেরাই নয়, ফিরছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে। এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পুমা নেইমারের জন্য তৈরি করেছে একটি বিশেষ বুট। পুমা এটি তৈরি করেছে বিখ্যাত ডিজাইনার প্রতিষ্ঠান কিডসুপারের সহযোগিতায়। বুটটির নাম দেয়া হয়েছে ফিউচার। ডিজাইনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ফিনিক্স পাখির প্রতীক। যা সহনশীলতা, বিশ্বাস এবং পুনর্জন্মের অনুভূতি ধারণ করে। বুটটি মূলত হলুদ রঙের। সঙ্গে রয়েছে সবুজ রঙের নিপুণ কারুকার্য। ঠিক ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার রঙের মতো। গ্লোবো জানিয়েছে, হলুদ রঙটিকে প্রধান করার অনুরোধ স্বয়ং নেইমার নিজেই করেছিলেন। নেইমার এই বুট নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই বুটটি আমার জন্য বিশেষ। ফিনিক্স হলো আমার গল্প। যতবারই মানুষ আমাকে নিয়ে সন্দেহ করেছে, আমি ফিরে এসেছি। হলুদ রঙটা, তলার কারুকার্য, প্রতীকগুলো— সবই ব্যক্তিগত। আমি চেয়েছিলাম মানুষ যেন এই বুটটার দিকে তাকিয়ে ঠিক সেই অনুভূতিটা পায়, যা আমি প্রতিবার এটা পরে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামার সময় অনুভব করি।’

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার দলে আছেন এবং মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘সে খেলার জন্য প্রস্তুত, সে খুব ভালোভাবে অনুশীলন করেছে।’
কোচ আরও জানান, নেইমারের মনোভাব ও পেশাদারিত্ব তাকে মুগ্ধ করেছে।

অনুশীলন মাঠেও নেইমারকে বেশ প্রাণোচ্ছল দেখা গেছে। সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতেছেন, যা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পুরনো নেইমারই ফিরে এসেছেন।


এবারের বিশ্বকাপটি একটি অদ্ভুত কারণে আলোচনায় এসেছে। প্রায় সব খেলোয়াড়ই গোলাপি রঙের বুট পরে মাঠে নামছেন। ফলে এই আসরটি অনেকের কাছে গোলাপি বুটের বিশ্বকাপ নামে পরিচিতি পেয়েছে। সেই প্রবণতার বিপরীতে গিয়েই নেইমারের হলুদ-সবুজ বুট আলাদাভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ব্রাজিল দলের সঙ্গে যোগ দিতে মিয়ামিতে এসে পৌঁছানোর পরই নেইমার বিশেষ উষ্ণতা পান। বিমানবন্দরে বহু ব্রাজিলীয় সমর্থক তাকে উল্লাস করে স্বাগত জানায়।

নেইমারের প্রত্যাবর্তন শুধু ব্রাজিলের জন্য নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বের জন্যই একটি বিশেষ মুহূর্ত। আঘাতে জর্জরিত দীর্ঘ বিরতির পর তিনি যদি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেন, তাহলে সেটি হবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগময় দৃশ্য। হলুদ-সবুজ জার্সি আর ফিনিক্সের বুট পায়ে— নেইমারের পুনর্জন্মের গল্প লেখা হবে বিশ্বকাপের মঞ্চেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন