গোলের খেলা ফুটবল। গোল নেই, ফুটবলে মজাও নেই। তাই বলে কি- বলে বলে গোল হবে। তারকাদের জাদু আমরা দেখতে পাবো না? নতুন কোনো তারকার সন্ধান মিলবে না! এই মুহূর্তে পিচগুলো গোলের বন্যায় রীতিমতো ভাসছে। কেন এত গোল। কী এমন ঘটলো। তারকারা বল পেলেই গোল করছেন। একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। লিওনেল মেসির নাম তো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বুকে উঠে গেছে। রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছেন মেসি। বলা হচ্ছে, এটা যেন মেসিরই বিশ্বকাপ। বাকি ছিলেন রোনালদো। তিনি ৬টি বিশ্বকাপে গোল করে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। এই বিশ্বকাপেও এখন পর্যন্ত দু’টি গোল। রেকর্ডের কাফেলায় তিনিও দাবিদার। তিনিই বলছেন, আমি ফিরে এসেছি। যারা ক’দিন আগেও রোনালদোকে অতীত বলতেন, এখন তারাই বলছেন- রোনালদোকে থামায় কে! কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্দ, হ্যারি কেইন, লামিন ইয়ামাল কি বসে আছেন! তারাও একের পর এক রেকর্ড দেখে নতুন নজির গড়তে প্রাণপণ লড়াই করছেন। চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ১০ দিনেই গোলের সেঞ্চুরি হয়েছে। অন্তত তিনটি কারণের কথা বলছেন ফুটবলপণ্ডিত ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, এমন আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। ফিফা কেন ৩২ থেকে ৪৮ দল করলো। শুধুই কি ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে? এই যুক্তি অনেকেই মানতে নারাজ। তারা আগেভাগেই বলেছিলেন, এরমধ্যে বাণিজ্যিক চিন্তাও আছে। বলা হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপ থেকে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার ফিফা’র অ্যাকাউন্টে জমা হবে। যা কিনা কাতার থেকে ১ বিলিয়ন ডলার বেশি। হাইড্রেশন ব্রেক কেন? এতে লাভ হলো কাদের- এ নিয়েও নানা যুক্তিতর্ক রয়েছে। অবশ্য কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন ফুটবলাররা। দম ফিরে পেয়ে অনেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে তারকারা। এবারের বিশ্বকাপে নতুন ১৬টি দল খেলছে। এদের মধ্যে ক’টা দল চমক সৃষ্টি করেছে। একমাত্র কেপ ভার্দে ছাড়া! নতুন রেকর্ডে বল পরিবর্তনও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ক্যানন বল দিয়ে যা হয়নি, এবার তা হয়েছে। ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন বল তছনছ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের গোলবক্স। দুমড়ে-মুচড়ে তারকারা গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের পিচগুলো এমনিতেই তপ্ত। এরমধ্যে যদি বলের অপ্রতিরোধ্য গতি হয়, তাহলে গোল তো হবেই। গোলের পেছনে আরেকটি বড় কারণ- অপেক্ষাকৃত দুর্বল টিমকে হারিয়ে তারকারা রেকর্ড ভাঙছেন। হিসাব মিলিয়ে দেখুন, তারকারা কীভাবে নতুন রেকর্ড তৈরি করছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি ফুটবলার পিটার স্মাইকেল বলছেন, এটা এক দ্রুতগতির বিশ্বকাপ। এখানে তারকারা সহজেই নিজেদের জাহির করছেন। তিনি অবশ্য রেফারিদের ভূমিকা নিয়েও কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। সুইডিশ তারকা ইব্রাহিমোভিচ সরাসরি সমালোচনা না করে বলেছেন, এটা যেন ম্যাজিক্যাল এক বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপ অনেককে হাসাচ্ছে, অনেককে কাঁদাচ্ছে। শেষ হাসিটা কে হাসবেন হলফ করে এখনই কিছু বলা যাবে না। তুরস্ক, হাইতি ও পানামা এখন পর্যন্ত কোনো গোল পায়নি। জার্মানি, কানাডা, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস গোলের তালিকায় এগিয়ে।
ম্যাজিক্যাল বিশ্বকাপে রেকর্ডের কাফেলা
মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ জার্সি থেকে
২৫ জুন (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
