সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের প্রশংসা করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘তিনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন’। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেও সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। গতকাল বিকালে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেন আরিফুল হক। চারদিনের সফরে সিলেট আসেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। সিলেট আসার পর বিমানবন্দরে সামপ্রতিক মাজার ইস্যু ও জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়েন মন্ত্রী। জবাবে মন্ত্রী বলেন, উনি তো (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো।
মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো এবং আমরা সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমরা সবাই একমত। মাজার নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো। খুব তাড়াতাড়ি মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। জেলা প্রশাসক সারওয়ারের বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটা আগে-পরেও হতে পারতো। সমপ্রতি কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ প্রবাসী নিহতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার।
নিহতদের পরিবারকেও সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। মন্ত্রী জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও বিশ্রামাগারসহ নানা বিষয়ে উদ্যোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ব্রিফিংকালে প্রশাসন ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে পৃথক দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার তাগিদে ডেগ সিলগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়। তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
তারা প্রথা ভেঙে মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তার আচমকা প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রোববার ও সোমবার সিলেটে সাধারণের ব্যানারে বিক্ষোভ করা হয়েছে। সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তিনি মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেন। সেদিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হয়। এতে চারদিনে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
