প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াইয়ে আমেরিকাকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ দিয়ে চালিত একটি মডেলের মাধ্যমে ২০১৭ সালের পর এই প্রথম তারা যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল। চীনের প্রযুক্তি হাব শেনজেনের ‘ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টার’-এ স্থাপিত ‘লাইনশাইন’ নামের এই দৈত্যকার যন্ত্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর দ্বিবার্ষিক তালিকা ‘শীর্ষ ৫০০’ তে পূর্ববর্তী মার্কিন শীর্ষস্থান অধিকারী ‘এল ক্যাপিটান’-কে দ্বিতীয় স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এই তালিকায় দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত এল ক্যাপিটানের চেয়ে লাইনশাইনের কম্পিউটিং গতি ২০ ভাগ বেশি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০২২ সাল থেকে চিপ ও প্রযুক্তির ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে চীনের অগ্রগতি ধীর করার চেষ্টার মধ্যেই এই সাফল্য এলো। চীনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লাইনশাইন মূলত একগুচ্ছ প্রযুক্তিগত বাধা পেরিয়ে আসার ফসল। বিদেশি প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার একটি ঐতিহাসিক ফল এই র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়া। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, লাইনশাইন সুপারকম্পিউটারটি বর্তমানের প্রথাগত জিপিইউ-এর (গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট) ওপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সিপিইউ এবং হাই-ব্যান্ডউইথ মেমরির (এইচবিএম) সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। হামবুর্গে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এর প্রধান ডিজাইনার লু ইউতং জানান, তারা প্রথাগত সিপিইউ-জিপিইউ হাইব্রিড আর্কিটেকচার ভেঙে এই নতুন সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশল এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অবশ্য এই মাইলফলক অর্জন সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এই তালিকা দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক এআই সক্ষমতা পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় না। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল কম্পিউটেশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের পরিচালক অ্যান্ড্রু রোল জানান, শীর্ষ ৫০০ তালিকাটি মূলত কয়েক দশক পুরোনো একটি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে প্রথাগত বৈজ্ঞানিক কম্পিউটিংয়ের গতি মাপে, যা আধুনিক এআই-এর জন্য পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়।
এছাড়া আমেরিকার এক্সএআই বা গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট এবং প্রতিরক্ষা খাতের অনেক শক্তিশালী এআই সিস্টেম গোপনীয়তা বা বাণিজ্যিক কারণে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় না। শীর্ষ ৫০০ তালিকায় এল ক্যাপিটান দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাওয়ার পর পরবর্তী দুটি স্থানে রয়েছে টেনেসী ও ইলিনয়ের দুটি মার্কিন সুপারকম্পিউটার এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে জার্মানির একটি সিস্টেম। শীর্ষ দশের বাকি স্থানগুলোতে ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও জাপানের মতো দেশের সুপার কম্পিউটারগুলো স্থান দখল করে নিয়েছে।
