অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস, অবশেষে ধরা খেলো বিআইডব্লিউটিএ’র আরিফ

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা একেএম আরিফ উদ্দিন। বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক। নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির অভিযোগে দুদকে রয়েছে মামলা।

অবশেষে এক নারীর সঙ্গে এই কর্মকর্তার অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার জারি করা এক দাপ্তরিক আদেশে জানানো হয়, একেএম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো তদন্তাধীন থাকায় জনস্বার্থে ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন। এই সময়ে তাকে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। একই আদেশে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আরিফ উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধানের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং চাকরিকালীন বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ ছিল, দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নৌপরিবহন খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন আরিফ উদ্দিন। চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের মধ্যে অন্যতম ছিল অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও স্বজনদের নামে জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্য নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের একটি কমিটি তার বিরুদ্ধে মূল অনুসন্ধানটি শুরু করে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক চিঠির মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে আরিফ হাসনাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক নথিপত্র তলব করা হয়। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) তার দায়িত্ব পালনকালীন সমস্ত ব্যাংক হিসাব ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের বিবরণীও তলব করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন