জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শিক্ষার্থী মো. সাকিব আহম্মেদ তুলন। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এ সাক্ষ্যর জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সাকিব আহম্মেদ বলেন, ১৯শে জুলাই রামপুরা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেয়ার সময় তার সামনে মারুফ নামে এক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মারুফ তাকে বলেন, মামা, আমার গুলি লেগেছে, আমাকে বাঁচাও। সাক্ষী জানান, মারুফকে প্রথমে উত্তর বাড্ডার একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবি’র বাধার কারণে এম্বুলেন্স প্রায় আধাঘণ্টা আটকে ছিল। পরে শান্তিনগর এলাকায় পৌঁছানোর আগেই মারুফ মারা যান। এর আগে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তবে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৯শে জুন দিন ধার্য করেন।
আগৈলঝাড়ার ‘ক্রসফায়ার’ হত্যা: সাবেক এমপি হাসানাতের নির্দেশে আসামি গ্রেপ্তার করা হয়: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ছাত্রদলের নেতাসহ দু’জনকে ‘ক্রসফায়ার’ এ হত্যার অভিযোগে করা মামলার তদন্তে নতুন একটি জবানবন্দি সামনে এসেছে। তৎকালীন বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য ও বর্তমানে সিআইডি’র এসআই মো. খলিলুর রহমান দাবি করেছেন, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশ এবং তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহর চাপে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষ্যের জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সুপার তাকে জানান, বাকেরগঞ্জ ও আগৈলঝাড়া থানার দুটি হত্যা মামলার আসামি কবির মোল্লা ও টিপু হাওলাদারকে যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। খলিলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে বরিশালে পাঠানো হয়। পরে তিনি টেলিভিশনের সংবাদ ও লোকমুখে জানতে পারেন, ওই দুই আসামি ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি আরও দাবি করেন, তৎকালীন এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশ এবং পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহর হুকুমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
