রংপুরে দশতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহানের মৃত্যুর মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই শিক্ষার্থী ছাদ থেকে পড়ে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের সঙ্গে কথা বলেছিল। এ ছাড়া গত ৯ মাস ধরে নুজশাতের সঙ্গে সাকিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এ ঘটনায় প্রাইভেট শিক্ষক সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাকিন নগরীর ধাপ চিকলীভাটা এলাকার ফোরকান আলীর ছেলে। সে রংপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। মঙ্গলবার বিকালে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানায় নুজশাতের বাবা বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবং মেয়ের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে জানতে পারি যে, সাকিনের সঙ্গে নুজশাতের সম্পর্ক ছিল। এ ছাড়া তাদের বন্ধুরাও একই কথা বলেছে। আমাদের কাছে আরও তথ্য রয়েছে, যেগুলো ভেরিফাই করা হচ্ছে। জানা যায়, সোমবার বিকাল ৪টায় প্রাইভেট পড়তে বাসা থেকে বের হন ক্যান্ট:পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান। নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ দশতলাবিশিষ্ট নর্থভিউ হোটেলের লিফটে করে সোজা ছাদে চলে যান তিনি। বিকাল ৪টা ৫৪ মিনিটে নুজশাত হোটেলের ছাদে উঠেন।
সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাস্তার বিপরীত দিকে মুখ করে একাই রেলিংয়ের ছাদে বসে থাকেন নুজশাত। এরপর বিকাল ৫টা ৪২ মিনিটে উল্টোভাবে রেলিংয়ে বসে থাকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই নুজশাতের মৃত্যু হয়। রাতে ময়নাতদন্ত শেষে নুজশাতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিন (২৫)কে আসামি করে নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, নুজশাতের মোবাইল ফোনের সকল মেসেজ ডিলেট অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে নুজশাতের প্রাইভেট শিক্ষক সাকিনের সঙ্গে মেয়ের মোবাইল ফোনে একাধিক ছবি ও বিভিন্ন কথোপকথনের মেসেজ ছিল। প্রাইভেট শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনের কারণে মেয়ের মৃত্যু হতে পারে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে নগরী থেকে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
