একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করতে নীরবে-নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন আব্দুল কাফি। কোনো পারিশ্রমিক নয়, নয় কোনো স্বীকৃতির প্রত্যাশাও। শুধুমাত্র মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের আশায় প্রায় ৪০ বছর ধরে কবর খনন করে চলেছেন তিনি। গ্রামে কারও মৃত্যুর খবর পেলেই কাঁধে একটি ব্যাগ ও হাতে কোদাল নিয়ে ছুটে যান আব্দুল কাফি। ব্যাগে থাকে কবর খননের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। দিন হোক কিংবা রাত। মানুষের শেষ যাত্রায় তিনি পাশে দাঁড়াতে সর্বদা প্রস্তুত। এ পর্যন্ত তিনি একাকী ৩১০টি কবর খনন করেছেন। শুধু তাই নয়, যৌথভাবে আরও শতাধিক কবর খনন করেছেন। আশ্চর্যের বিষয়- এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কবর খনন বাবদ কারও নিকট থেকে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি।
মো. আব্দুল কাফি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪ ছেলে ও ৩ কন্যার জনক। তার চাচাও এভাবে কবর খনন করতেন। জীবিকার জন্য তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে সুঁই-সুতা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করেন। এছাড়াও অবসর সময়ে তিনি মাছ স্বীকার করেন। সাধারণভাবে জীবনযাপন করলেও মানুষের জন্য এক অসাধারণ সেবার নজির গড়ে তুলেছেন তিনি। আব্দুল কাফির বিশ্বাস- মানুষের শেষ ঠিকানা তৈরি এ কাজই তার জন্য পরকালের পাথেয় হতে পারে। তাই তিনি কোনো প্রতিদানের আশা না করে কবর খননের কাজ করে চলেছেন একাগ্রতার সঙ্গে।
শুধু নিজ এলাকায় নয়, তিনি দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল জেলায়ও কবর খনন করেছেন। কবর খননের দীর্ঘ জীবনে অনেক ঘটনাই তিনি দেখেছেন। তবে একবার একটি কবর খননের সময় পরনের কাপড়সহ প্রায় অক্ষত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পাওয়ার ঘটনা আজও তাকে নাড়া দেয়। স্থানীয় রফিকুল ইসলাম, আতিয়ার রহমানসহ অনেকেই জানান, কবর খননের বিনিময়ে শুধু টাকা নয়, এক কাপ চা-ও পান পর্যন্ত গ্রহণ করেন না তিনি। এমনকি তিনি মৃত ব্যক্তির দো’আ অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলেও তা গ্রহণ করেন না। তার এই নিঃস্বার্থ কাজ এলাকায় তাকে বিশেষ সম্মানের আসনে বসিয়েছেন।
