২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার মামলা

সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আরও সাতজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমানের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে মামলায় তালিকাভুক্ত ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ই জুলাই দিন ধার্য করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুদকের পক্ষ থেকে সাতজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৩ই অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত জালিয়াতির মাধ্যমে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখানো হয়। পরে ভুয়া ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করানো হয়।

তদন্তে দুদক দাবি করেছে, ঋণের অর্থ উত্তোলনের পর তা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয় এবং বিদেশে বিভিন্ন সম্পদ ক্রয়ে ব্যবহার করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পাশাপাশি তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী, ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ ব্যাংকের একাধিক সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভিশন ট্রেডিংয়ের কথিত মালিক ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, আরামিট গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩৬ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৪শে জুলাই প্রথমে ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্ত চলাকালে নতুন করে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬ জন করা হয়।

তবে মামলার দুই আসামি ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন