ফেনীর মহিপালে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টমটমচালক মো. সবুজ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবীর আদালতে মামলার বাদী নিহত সবুজের ভাই মো. ইউছুফ প্রথম দিনে মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি জানান, তার সামনে সবুজকে গুলি করে হত্যা করে সশস্র সন্ত্রাসীরা। এ কারণে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন ইউছুফ। এর মধ্যদিয়ে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট ফেনীর মহিপালে সংঘটিত নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে ফেনী মডেল থানা ও আদালতে দায়ের করা ২৪টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলো। তার মধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৭টি মামলায় হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, আসামি কারা তা মুখ্য বিষয় নয়, ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে এম আশা ফেনীবাসীর। ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্বিচারে করা গুলিতে প্রাণ হারান সবুজ। পরে ওই বছরের ১৩ই আগস্ট সবুজের ভাই ইউছুফ বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী সদর উপজেলার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীসহ ৬২ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এর আগে গত ৫ই মে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত করে সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দেন বিচারক। তার আগে গত বছরের ২২শে ডিসেম্বর পলাতক থাকায় নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ পলাতক ৭১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তার আগে ৯ই ডিসেম্বর মামলায় এজাহারনামীয় ৬২ জন ও তদন্তে নাম পাওয়া আরও ৫৯ জনসহ মোট ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়। ইতিমধ্যে এ মামলায় এজাহারনামীয় ৫ জন ও সন্দেহভাজন ৩৯ জনসহ মোট ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
