বৃদ্ধ এমফার আলীর এখন বয়স ৮৮ বছর। অনেক আগে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত হলেও এখনো পাচ্ছেন না বয়স্ক ভাতা। প্রতিনিয়ত উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আসেন বয়স্ক ভাতা পাওয়ার আশায়। কর্তৃপক্ষের সামান্য ভুলের কারণে তিনি বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর (শালবাড়ী) গ্রামের মৃত ফরিজ মাহমুদের ছেলে এমফার আলীর জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময় নিয়োজিত ব্যক্তিরাই তার জন্মতারিখ দেন ১৫ই জুন ১৯৬৭। সে অনুযায়ী তার বয়স ৬৫ বছর হয়নি। যার কারণে তিনি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে লেখাপড়া না জানা এমফার জানান, ‘বাবাগো আমি লেখাপড়া জানি না।
উনারা (তৎকালীন কম্পিউটার অপারেটর) যে কী করেছে জানি না। পরে দেখি আমার যে জন্মতারিখ দিয়েছে তাতে আমার এখন বয়স ৬২ বছর। অথচ এখন আমার বয়স ৮৮ বছর। অফিসে গিয়েছি, কিন্তু তারা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী আপনার বয়স না হওয়ায় এখনো ভাতা পাবেন না।’ তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তারিখ ঠিক করার জন্য গেলেও হচ্ছে না। তবে বৃদ্ধ এমফার বলেন, আমার ভাতার কার্ড না হলেও আমার স্ত্রী মোছা. জহরা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ৬ই অক্টোবর ১৯৬২। সে অনুযায়ী তার বয়স ৬৪ বছর, তিনি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। সেই ভাতার টাকা দিয়ে অতিকষ্টে বৃদ্ধ দম্পতি দিনাতিপাত করছেন।
পরিবারে চার মেয়ে ও এক ছেলে, সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে দিনমজুর করে ভিন্ন খায়। এমফার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্ত্রীসহ একইসঙ্গে থাকি, একসঙ্গে কার্ড করে দেয়। আর সেই কার্ডে আমার স্ত্রী আমার চেয়ে দুই বছরের বড়। ওমরা (ওনারা) শিক্ষিত মানুষ হয়া (হয়ে) এই রকম ভুল করে ক্যান। তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত বয়স সংশোধন করে ভাতা করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তাপস রায় জানান, এমফার তার স্ত্রীসহ অফিসে আসেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ অনুযায়ী তার বয়স ৬৫ বছর হয়নি। এজন্য তিনি ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেননি। কিন্তু তার স্ত্রীর বয়স হওয়ায় তাকে বয়স্ক ভাতা দেয়া হচ্ছে। আর এমফার আলীকে বয়স সংশোধন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
