মাঠের চরম ব্যর্থতার মাঝে এবার মাঠের বাইরের নানা কেলেঙ্কারিতে শিরোনামে সেনেগাল। বিশ্বকাপে টানা দুই হারে নকআউট পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে থাকা আফ্রিকান পরাশক্তিদের অন্দরমহলে এখন চরম বিশৃঙ্খলা। বকেয়া বোনাস নিয়ে ক্ষোভ, কোচের চুক্তি জট আর ‘খাবার নিয়ে বিতর্কে উত্তাল দলের ক্যাম্প। আগামী শুক্রবার ইরাকের বিপক্ষে জীবন-মরণ ম্যাচের আগে রীতিমতো খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ‘তেরাঙ্গা লায়ন’রা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি চার তারকা হোটেলে অবস্থান করছে সেনেগাল দল। সেখানেই একের পর এক মাঠের বাইরের নাটকীয়তা জন্ম নিচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে বোনাস নিয়ে। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ফুটবলারদের বোনাস না দেয়ায় অসন্তোষ দানা বাঁধে। পরিস্থিতি সামলাতে শেষ মুহূর্তে সেনেগাল সরকার হস্তক্ষেপ করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে। দলের কোচ পাপে থিয়াও অবশ্য বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি যে ছিল, তা সত্যি। তবে খেলোয়াড়, স্টাফ ও ফেডারেশন এখন আগামীকালের ম্যাচেই পুরোপুরি মনোযোগী।’
বোনাসের পাশাপাশি ক্যাম্পের বড় আলোচনার বিষয় ছিল খাবার। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে ব্যক্তিগত কারণে দলের প্রধান শেফ ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। তবে নতুন শেফ আসায় ফুটবলারদের কোনো সমস্যা না হলেও, ফেডারেশনের অফিশিয়ালদের পরিবার ও অনাহুত অতিথিদের কারণে হোটেল লবিতে এক জগাখিচুড়ি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেনেগালিজ ঐতিহ্যবাহী খাবার না পেয়ে তারা বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করছেন, যা দলের কঠোর শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সাবেক সেনেগাল ফরোয়ার্ড এল হাদজি দিউফ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরটিএস-কে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের এই মুহূর্তে এই ধরনের ঝামেলার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’
এসবের মধ্যে যোগ হয় কোচ পাপে থিয়াওর চুক্তি জট। চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় একপর্যায়ে তিনি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসতেই অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে নিজে হস্তক্ষেপ করে বার্ষিক ৪ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড বেতনে চুক্তি চূড়ান্ত করেন। থিয়াও বলেন, ‘টাকার কোনো সমস্যা ছিল না, এটি ছিল সম্মান ও নীতির লড়াই। এখন চুক্তি সই হয়েছে, বিতর্ক অতীত।’
মাঠের পারফরম্যান্সে এর প্রভাব স্পষ্ট। ফ্রান্সের কাছে ৩-১ এবং নরওয়ের কাছে ৩-২ গোলে হেরে খাদের কিনারায় তারা। এর ওপর টিকিট না পেয়ে প্রবাসী সমর্থকরা দলের হোটেলের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। গোলকিপার মোরি দিয়াও বলেন, ‘সব সমস্যা অভ্যন্তরীণভাবে মিটে গেছে। আমরা এখানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি এবং লক্ষ্য থেকে আমাদের মাথা সরানোর কোনো সুযোগ নেই।’
