পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে জোড়া গোলে অনন্য কীর্তি গড়েছেন লিওনেল মেসি। তবে ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের শুরুতে পেনাল্টি মিস করে নিজের ওপরই যারপরনাই চটেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই ক্ষোভই হয়তো তাতিয়ে দেয় তাকে। পরে জাদুকরী এক জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জিতিয়েছেন, এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার (১৮) সিংহাসনটি নিজের করে নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।
ম্যাচ শেষে নিজের মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আজ এমন একটা মুহূর্ত ছিল, যখন পেনাল্টি মিস করায় আমি নিজের ওপর খুব রেগে গিয়েছিলাম। শটটা আমি খুবই বাজে মেরেছিলাম। তবে ভাগ্য ভালো যে আমরা সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি, লিড নিয়েছি এবং ৩টি পয়েন্ট পেয়েছি। দিনশেষে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
২০০৬ সালে অভিষেকের পর বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে এটি মেসির তৃতীয় পেনাল্টি মিস। তবে আধা ঘণ্টার মাথায় প্রথম গোল এবং ম্যাচের ইনজুরি টাইমে দ্বিতীয় গোল করে তিনি সেই ভুল পুষিয়ে দেন। আলজেরিয়ার পর অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে থাকা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের শেষ ৩২-এর টিকিট এখন নিশ্চিত।
বিশ্বকাপের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লিও জানান, কোনো ম্যাচই এখন আর সহজ নয়। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনায় জয় তো সবসময়ই থাকে। তবে আমরা জানতাম কাজটা সহজ হবে না, বিশেষ করে এবারের বিশ্বকাপ যেভাবে জমজমাট হয়ে উঠছে। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন, কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়ছে না। অস্ট্রিয়া আমাদের খুব বেশি চেপে ধরতে পারেনি ঠিকই, তবে ম্যাচটা বেশ গতিময় ছিল। এবং স্বাভাবিক খেলাটা কঠিন ছিল। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল নকআউটে যাওয়া।’
টানা দুই জয়ে নকআউট নিশ্চিত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা দল। পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি বলেন, ‘প্রথম লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় সামনের সপ্তাহটা কিছুটা চাপহীন কাটবে। এখন পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবছি। আর হ্যাঁ, আমি প্রতিটি মুহূর্ত দারুণ উপভোগ করছি।’ আগামী ২৮শে জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা।
