নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে

এফওপিএল নিয়ে সাংবাদিক কর্মশালা

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে

ফন্ট সাইজ:

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে (ফুড বিজনেস অপারেটর) তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সঙ্গে খাদ্য পণ্যের লেবেলিং ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভেজাল ও মানহীন খাদ্য নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। এই কর্মশালার আয়োজন করেছে আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর।
কর্মশালার প্রধান অতিথি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরের প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং একসঙ্গে সম্পন্ন করা যাবে। তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এরপর নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে একই তথ্য বারবার দিতে হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে। তিনি বলেন, খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে জানা জনগণের মৌলিক অধিকার। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে বিদ্যমান ক্ষতিকর উপাদান সহজে চিহ্নিত করার জন্য ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্যাকেটজাত খাবারের পেছনে থাকা জটিল ‘নিউট্রিশন ফ্যাক্টস’ সাধারণ ভোক্তার জন্য বোঝা কঠিন হওয়ায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এই কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিংকে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এফওপিএল পদ্ধতিতে প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যাতে ভোক্তা দ্রুত বুঝতে পারেন কোন খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি রয়েছে। বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে বিভিন্ন ধরনের এফওপিএল মডেল চালু রয়েছে। চিলি ও মেক্সিকোতে কালো অষ্টভুজাকৃতি সতর্কবার্তা, যুক্তরাজ্যে ট্রাফিক লাইট এবং ফ্রান্সে নিউট্রি-স্কোর পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। চিলিতে এ ব্যবস্থা চালুর পর চিনিযুক্ত পানীয় ও জাঙ্ক ফুডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশেও এফওপিএল চালুর জন্য একটি খসড়া বিধিমালা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে উচ্চ চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কীকরণ চিহ্ন ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।

বক্তারা বলেন, খাদ্যের মোড়কে সহজবোধ্য ও স্পষ্ট পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও কার্যকর একটি পদ্ধতি। তাই এফওপিএল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও আইনি বাধ্যবাধকতা দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর করা জরুরি।
কর্মশালায় “বাংলাদেশে খাদ্য পরিবেশ, অসংক্রামক রোগ ও এফওপিএল” বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন নাহার মহুয়া। “জনস্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাডভোকেসিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা” বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান সোহেল।

এছাড়া “এফওপিএল বিষয়ক কার্যকর সংবাদ পরিবেশনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক সেশন পরিচালনা করেন বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন। আলোচকরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ফ্রন্ট অব প্যাকেজ লেবেলিং বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকে আরও অনুসন্ধানী, তথ্যভিত্তিক ও ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের আহবান জানান। কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা এফওপিএল বিষয়ে জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ ও সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন