আলোচনায় ইরানের জয়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

আলোচনায় ইরানের জয়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

ফন্ট সাইজ:

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে মার্কিন প্রশাসন। সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তির অধীনে সোমবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়। একই সাথে এই চুক্তির প্রভাবে লেবাননে দুই দিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে চুক্তিটি সই হওয়ার পরও লেবাননে ইসরাইলি হামলা চলতে থাকায় একপ্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তীতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কড়া অবস্থানের কারণে ইসরাইল লেবানন থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে তিনি আবারও যুদ্ধ শুরু করবেন। এতে ইরানি আলোচকগণ ওয়াকআউট করতে চান। পরবর্তীতে তারা পুনরায় আলোচনায় অংশ নেন। এতে সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও ৩ ভাগ কমে গেছে। জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির ‘দৃঢ় ভিত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় সম্মত হয়েছে।

এছাড়া, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লেবাননে লড়াই বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ যোগাযোগ লাইন চালু করতেও তারা একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এর ফলে ইরান তেল বিক্রি করতে এবং তার অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ইরান পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনে অনুমতি প্রদানে রাজি হবে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক বিষয়ে এখনো কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত জারেড কুশনারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল অবমুক্ত করা হলেও তা থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের নিয়ন্ত্রণে, যা দিয়ে কেবল মার্কিন ভুট্টা, সয়াবিন ও গম কেনা যাবে। তবে ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর এই বাধ্যবাধকতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

মোঃ আব্দুস সালাম

১ ঘন্টা আগে

এটা আমেরিকার একটা অযৌক্তিক দাবি। ইরানের অর্থ ইরান তার ইচ্ছামতো ব্যবহার করবে। তবে কোন সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করার উচিত উচিত নয়।

মন্তব্য করুন