সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রত্যাহার আদেশের প্রতিবাদে গতকাল দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন, ডিসি সারওয়ার চলে গেলেও হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজার ঘিরে কোনো লুটপাটকারী চক্রের স্থান হবে না। ওদিকে নিজের পক্ষে বিক্ষোভের মধ্যেই গতকাল বিদায় নিয়েছেন ডিসি সারওয়ার আলম। বিদায়ের আগে মাজারের দান-খয়রাতের টাকার একটা ধারণাও দিয়ে গেছেন তিনি। প্রশাসনের জিম্মায় নেয়া দানবাক্সে মাত্র ৩ দিনে ১৭ লাখের বেশি টাকা জমা হয়েছে। যা ডিসি সারওয়ারের তত্ত্বাবধানে গুনে দেখা হয়েছে। বছরের পর বছর মাজারের দানের টাকার কোনো হিসাব না মিললেও এই ৩ দিনের হিসাবে বহু প্রশ্নের জবাব মিলেছে বলে আন্দোলনকারীরা মনে করছেন।
সকালে যখন ডিসি অফিসে আসেন তখন তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ চলছিলো। তাকে পদে বহাল রাখার জন্য বিক্ষোভ। ডিসি আসতেই ঘিরে ধরেন লোকজন। ডিসিও হাসিমুখে তিনি তাদের পাশ দিয়ে নিজ কার্যালয়ে চলে যান। কর্মকর্তাদের নিয়ে রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করেন। বাইরে বিক্ষোভ ও ভেতরে বৈঠক। নানা প্রশ্ন। পরিস্থিতি কী হতে পারে। বেলা ১টার দিকে ডিসি বের হলেন কার্যালয় থেকে। সোজা চলে গেলেন হযরত শাহজালাল (র.) মাজারে। তৈরি হয় নতুন জল্পনা। কর্মকর্তারা জানান, বিদায় নিতে পারেন ডিসি সারওয়ার। এ কারণে ডিসি হিসেবে শেষ সফর হতে পারে মাজার। মাজার মসজিদের সামনে পৌঁছামাত্র জোহরের নামাজ শুরু। নামাজ পড়লেন। বের হয়ে সোজা চলে এলেন মাদ্রাসার অফিস কক্ষে। তাকে ঘিরে জটলা। শত শত মানুষের উপস্থিতি।
ডিসি কিছু বলবেন। কিন্তু না কোনো কথাই বললেন না। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সোহেল রানা। তিনি ছিলেন মাজারের দানবাক্স ও ডেগের তদারকিতে। তার নেতৃত্বেই গত বৃহস্পতিবার ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়। পুলিশ ও আনসার নিয়ে তিনি সেটি খুললেন। সব টাকা বস্তায় ভরলেন। দুই বস্তা টাকা ও জিনিসপত্র। সব নিয়ে আসলেন মসজিদের সামনে। বিছানো হলো সামিয়ানা। সেখানেই ঢালা হলো দানবাক্সের টাকা। ৫০ জনের মতো ব্যক্তি আড়াই ঘণ্টা ধরে ওই টাকা গুনলেন। টাকা গণনার শেষ পর্যায়ে ডিসি বের হলেন মাদ্রাসার অফিস কক্ষ থেকে। সামনে তখনো শত শত মানুষ। সাংবাদিকরাও। ডিসি বললেন- ‘থ্যাংক ইউ, আপনারা আমার জন্য অনেক করেছেন।’ আর কোনো কথা বললেন না। সোজা চলে আসেন সার্কিট হাউজে।
ততক্ষণে মিছিলকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছেড়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত। সার্কিট হাউজে বসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন ডিসি সারওয়ার আলম। বৈঠকে উপস্থিত থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানিয়েছেন- এটাই সিলেটে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের শেষ বৈঠক। এডিএম পিংকি সাহাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি এখন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক। প্রত্যাহার করা হলে থাকার সুযোগ নেই।
এ জন্য দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সার্কিট হাউজেই ছিলেন বিদায়ী ডিসি। সঙ্গে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিদায়ী ফেয়ারওয়েলও হয়েছে। ওদিকে মাজারের দানবাক্স দিলো নানা চমক। মাত্র তিন দিনের হিসেবে মিললো ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ছিল ডলার, পাউন্ড ও রিয়াল। কিছু স্বর্ণও পাওয়া যায়। গণনা শেষে এ নিয়ে সবাইকে ব্রিফ করেন ওয়াক্ফ কর্মকর্তা সজল মিয়া। তিনি বলেন- স্বচ্ছতার জন্য সবার সামনে এই টাকা গণনা করা হয়েছে।
