১৩ দিন পর আহত রাফির মৃত্যু

চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপ

১৩ দিন পর আহত রাফির মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত চালক সাজিদ চৌধুরী ওরফে রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সকাল সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রাফির মৃত্যু হয়। দীর্ঘ ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সাজিদ ঢাকার কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম শামসুল চৌধুরী। মা তানিয়া সিকদার। রাফি তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন।

৯ই জুন দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাফি চলন্ত মোটরসাইকেলে ছিলেন। তাকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয়। ইটের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাজিদ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে মনে করছেন তারা। হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কাফরুল থানায় মামলা করেন সাজিদের চাচা নুর হোসেন। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মূল অভিযুক্ত মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু। আমিন নামে এক আসামি পলাতক রয়েছে।

ঘটনার দিন রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। আগে থেকে ওত পেতে থাকা একজন তাকে থামার সংকেত দেয়। তিনি না থামলে আরেকজন চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট ছুড়ে আঘাত করে। এতে রাফি রাস্তায় পড়ে যান। পরে তাকে অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে এটি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে পরে তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত।

ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাতে শেওড়াপাড়ার একটি গলিতে রাফি তার ‘ইয়ামাহা ভার্সন-৩’ মডেলের মোটরসাইকেল চালিয়ে ফিরছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল না। গলি দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুই দুর্বৃত্তের মধ্যে একজন চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে সজোরে ইট নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে মুহূর্তেই রাফি মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এরপরই একজন মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই অন্য দুর্বৃত্ত নাটকীয়ভাবে উপর থেকে ইট পড়েছে বলে চিৎকার শুরু করে এবং স্থানীয়দের ডাকে আহত রাফিকে রিকশায় তুলে হাসপাতালে পাঠানোর অভিনয় করে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরাই রাফিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর রাতেই ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে ওসি বলেন, এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই নয়, বরং পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

আসামি গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানিয়েছিল, ব্যবসা নিয়ে মোটরসাইকেল চালক রাফির সঙ্গে হামলাকারীদের বিরোধ ছিল। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলের চালক সাজিদ চৌধুরী রাফি সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো- মূল অভিযুক্ত মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন