ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছর বয়সী শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এদিকে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাসসুম মূলত মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাবাসসুমের পিতা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত আছেন।
জানা গেছে, গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাসসুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের।
একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে গত ২৬শে মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তাবাসসুম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ই জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ই জুন সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ২১শে জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদালত। সরকার পক্ষে পিপি এড. আকিদুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) এডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী এড. আকিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হলো।
