চট্টগ্রামে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার সকাল থেকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত, বদলি ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
আন্দোলনে অংশ নেয়া চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা আফরিন বলেন, ‘আমাদের প্রধান দাবি অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল।
প্রায় এক বছর ধরে আমরা ন্যায়বিচারের আশায় আন্দোলন করছি। অনেক পরিবার চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।’ আরেক নারী কর্মকর্তা বলেন, চাকরি হারানোর পর তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়, পরিবার পরিচালনা এবং বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন আন্দোলনকারীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্বের সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বহাল, দক্ষ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ৫ই আগস্টের পর সংঘটিত সব অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নিরপেক্ষ তদন্ত।
তাদের অভিযোগ, মানবসম্পদ নীতিমালা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মিথ্যা অভিযোগ, অযৌক্তিক বদলি, মানসিক ও প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে ১০ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের দাবি বিবেচনা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
