ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রণোদনা বিতরণে নেত্রকোণা জুড়ে ক্ষোভ

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রণোদনা বিতরণে নেত্রকোণা জুড়ে ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানির পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, (প্রণোদনা) বরাদ্দে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাঠানো তালিকায় ৫৭ হাজার ৪১৩ জন কৃষকের নাম থাকলেও বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৪০ হাজার ৯১৩ জনের জন্য। ফলে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কৃষক সহায়তার বাইরে থাকে। যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ১০ উপজেলায় ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন কৃষকের ১৬ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমি।

এতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন ধান, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসন যাচাই-বাছাই শেষে ৫৭ হাজার ৪১৩ জন কৃষকের তালিকা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। তালিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ‘ক’ শ্রেণিতে ১৯ হাজার ১৬৯ জন, ‘খ’ শ্রেণিতে ২৭ হাজার ৯৮৩ জন এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ১০ হাজার ২৬১ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আসে মাত্র ৪০ হাজার ৯১৩ জন কৃষকের জন্য। উপজেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণ বরাদ্দ এলেও অন্য কয়েকটি উপজেলায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কম এসেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খালিয়াজুরী উপজেলায় ৯ হাজার ৮৩১ জন কৃষকের বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে ৭ হাজার ৮৩১ জনের জন্য।

কেন্দুয়ায় ৮ হাজার ৯৩৯ জনের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৯৩৯ জনের জন্য। কলমাকান্দায় ৮ হাজার ৩২০ জনের বিপরীতে ৬ হাজার ৩২০ জন, নেত্রকোণা সদরে ৫ হাজার ৭৯৫ জনের বিপরীতে ৩ হাজার ৭৯৫ জন, আটপাড়ায় ৫ হাজার ২০৮ জনের বিপরীতে ৩ হাজার ২০৮ জন, মদনে ৮ হাজার ৩২৯ জনের বিপরীতে ৫ হাজার ৩২৯ জন এবং পূর্বধলায় ১ হাজার ৫৬৩ জনের বিপরীতে ১ হাজার ৬৩ জনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে দুর্গাপুরের ১ হাজার ৭০৪ জন এবং বারহাট্টার ২ হাজার ২৪৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য পূর্ণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ সংকটের কারণে বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম আসায় বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী তালিকা সমন্বয় করে সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে আরও কৃষককে সহায়তার আওতায় আনার সুযোগ হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাকিবুল হাসান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ১৮৫৫৪৭ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮১১৫৫ টন ধান ক্ষতি বাদে জেলার মোট উৎপাদন হয়েছে ৭৯৭০৬৫ টন। প্রায় ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন