আগামীতে সারাদেশে মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আগামীতে সারাদেশে মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা একই প্রশ্নে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার যেসব বিষয় কমন, তাদের প্রশ্নও একই করা হবে। আমরা শিক্ষায় কোনো বৈষম্য চাই না’ সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের জনসংখ্যা কমছে, আমাদের বাড়ছে, এটা কোনো অভিশাপ নয়। এটাকে মানব সম্পদে রূপান্তর হতো তাহলে অভিশাপ বলতে হতো না। আমরা যদি এই জনসংখ্যাকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতাম তাহলে সম্পদ হতো। আমরা কারিগরি শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা অবসরে চলে গেছেন হাইকোর্টের মামলার কারণে। ২০১৭ সালে এই সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু এতদিন কেউ এটি এড্রেস করেনি। আমি মন্ত্রী হওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকদের মামলা চলে, ফলে দেশে ৬৫ হাজারের মধ্যে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি পান না। আমি সংসদে বলার পর সেটি আদালতের নজরে এসেছে। ২ জুলাই এটি সমাধান হবে। এমপিও শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি মাসে ৫০০ কোটি টাকা বেতন দিতে হয়। আগের সরকার নিয়োগ দিয়েছে কিন্তু বেতনের ব্যবস্থা করেনি। এই শিক্ষকদের বেতনের বাজেট ছিল না।’ ভবিষ্যতে তাদের নিয়মিত বেতন হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আগামীতে ক্রমান্বয়ে আমরা শিক্ষায় জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ ক্রস করবো। কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো করতে হলে আপনাদের লেখাপড়া ছাড়া যা দরকার তা আপনাদের কাছে নেই। আমি প্রথম ব্লু-ইকোনোমির কথা প্রথম শুনেছিলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুখে। আমারা দেখেছি উনি ছাত্রদের কীভাবে উৎসাহিত করতেন, শুধু রাজনীতি নয় এর পাশাপাশি লেখাপড়াও করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে বগুড়া ইউনিভার্সিটি বিল পাস করেছি। সেখানে নতুন-নতুন বিষয় থাকবে। এই প্রথম ইউরোপ আমেরিকার মতো একটি ইউনিভার্সিটি হচ্ছে। নোয়াখালীতেও এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা রয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন সাহেবের কাছ থেকে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব আমরা পাবো বলে আশাকরি।’
অনুষ্ঠানে ৪৯ জন কৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. গোলাম রব্বানী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন