কাঁদছে সিলেটের ৫ প্রবাসী পরিবার

কাতার ট্র্যাজেডি

কাঁদছে সিলেটের ৫ প্রবাসী পরিবার

ফন্ট সাইজ:

স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে কাতার গিয়েছিলেন কানাইঘাটের গাছবাড়ির আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন। নিতান্তই গরিব ঘরের সন্তান। কাতারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল দুপুরেই আত্মীয়ের মারফতে বাড়িতে পৌঁছে মৃত্যুর খবর। এরপর থেকে মাতম চলছে জসিম উদ্দিনের বাড়িতে। গ্রামের মানুষও কাঁদছে। বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে মাতম করছিলেন স্ত্রী শাহিনা বেগম। চার বছর ধরে কাতারে কাজ করছেন তার স্বামী। সামনে বাড়িতে আসার কথা ছিল। এমন সময় তার মৃত্যুর খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘দুই সন্তানকে নিয়ে আমি এখন যাবো কোথায়?

কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বকর সান্ত্বনা দিতে গেছেন জসিম উদ্দিনের বাড়িতে। সান্ত্বনা জানানোর ভাষাও নেই। তিনি জানান, তার ইউনিয়নের চারজন কাতারে একসঙ্গে সড়ক দুঘর্টনায় মারা গেছেন। আরেকজন মারা গেছেন তার পাশের ইউনিয়নের। সব মিলিয়ে ৫ জন মারা গেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, কাতারের সানাইয়া এলাকায় গতকাল সকালে ৫ জন মারা যান। ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সলিম উল্লাহর ছেলে মোস্তাক আহমদ, মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে জুবায়ের আহমদ, আগতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের আবদুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ ও দক্ষিণবাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ। কানাইঘাটের ইউএনও মেহেদী হাসান শাকিল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়ামাত্র ওই এলাকায় তার পক্ষ থেকে লোক পাঠানো হয়। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানও রয়েছেন এলাকায়। তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কাতারে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারে খবর পৌঁছে।

কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করে এসেছেন পুলিশের টিম। যারা মারা গেছেন তাদের বাড়ি পাশাপাশি এলাকায় বলে জানান তিনি। এদিকে, কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের জুবায়ের আহমদও কাতারে ওই সড়ক দুঘর্টনায় নিহত হয়েছেন। বিকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল শোকের মাতম চলছে। পরিবারে জুবায়েরের মা ও স্ত্রী, সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি হচ্ছেন জুবায়ের আহমদ। প্রায় ৩ বছর ধরে তিনি কাতারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। মা জাহানারা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে মাতম করছেন। এমন খবর শোনার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন। বলেন, জুবায়ের প্রায় দুই মাস আগে বাড়িতে এসেছিল। সবাইকে নিয়ে হাসিখুশি অবস্থায় ছুটি কাটিয়ে কাতারে চলে যায়। প্রতিদিনই সে পরিবারের সঙ্গে ফোন করতো। কথা বলতো। জাহানা বেগম জানিয়েছেন, জুবায়ের ছিল তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, গাছবাড়ি অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তারা স্ত্রী, সন্তানদের ফেলে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারসহ এলাকার মানুষের একটাই চাওয়া- নিহতদের মৃতদেহ যেন বাড়িতে নিয়ে আসতে সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেন। তার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর শোক: কাতারে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এক শোকবার্তায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মন্ত্রী আরও জানান, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন