ফুটবল তারকারা কী খান, কী করেন, কী তাদের পছন্দ-এ নিয়ে হাজারো গল্প চালু আছে। তবে নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্দের খাবার তালিকা নিয়ে নেট দুনিয়ায় বিচিত্র সব গল্প। তার সতীর্থরা বলছেন, গল্প নয় বাস্তব। তাহলে হালান্দ কী খেতে পছন্দ করেন। তার পছন্দ-গরুর কলিজা। গরুর মাংস তার পছন্দের তালিকায় নেই। তিনি রেডমিট পছন্দ করেন না। কলিজা, তাও তরতাজা হতে হবে। একদিকে গরু জবাই হবে, অন্যদিকে তার চাই রক্তমাখা কলিজা। প্রতিদিন তার দরকার ছয় হাজার ক্যালোরি। হালান্দের বয়স পঁচিশ। ম্যানচেস্টার সিটির গোল মেশিন। দুর্দান্ত ফর্ম।
৫৩ খেলায় ৫২ গোল করেছেন। যেখানে মেসি ৪৪ খেলায় করেছেন ৩৮ গোল। এটা হালান্দের প্রথম বিশ্বকাপ। প্রথম দিনেই ইরাকের বিরুদ্ধে দু’টি গোল করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ইংল্যান্ডের লিডসে তার জন্ম। বাবাও ছিলেন ফুটবলার। লিডসের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলতেন। হালান্দের অনুপ্রেরণা হচ্ছেন রোনালদো এবং ইব্রাহিমোভিচ। বলা চলে, এই দু’জনকেই অনুকরণ করেন। ভক্তির পাত্র তারা দু’জন। ঘুমানোর সময় মুখে টেপ লাগিয়ে রাখেন। এটা নাকি ছোটবেলা থেকেই। নীল আলো প্রতিরোধী চশমা ব্যবহারেও তার রয়েছে বায়োহ্যাকিং রুটিন। স্কাই স্পোর্টস এমনটাই বলছে। পাঁচ বছর বয়সে লং জাম্প পেয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন। সেই অবিশ্বাস্য জাম্পিং রেকর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও পরিসংখ্যান দেখতে পাওয়া যায় ইন্টারন্যাশনাল এইজ রেকর্ডসের অফিসিয়াল সাইটে।
কৈশোরের র্যাপ ব্যান্ড ‘flow kingz’ বন্ধুদের সঙ্গে তার করা গানের ইতিহাসও আছে গোল ডটকমের বিবরণে। নরওয়েজীয় দানব আর্লিং হালান্দকে নিয়ে বিশ্বকাপে চলছে তোলপাড়। মাঠের ভেতরে ডিফেন্ডারদের দুমড়ে-মুচড়ে গোল করা রোবটের ভেতরের জীবনটা কিন্তু অসাধারণ। তার অবিশ্বাস্য শারীরিক গঠন। অতি মানবীয় পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে কিছু অদ্ভুত এবং গা শিউরে ওঠা গোপন অভ্যাস। যা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে।
হালান্দকে নিয়ে চর্চার শেষ নেই। কারণ তিনি কেবল একজন ফুটবলার নন। যেন ল্যাবরেটরিতে তৈরি এক আধুনিক যুগের গ্ল্যাডিয়েটর। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আধুনিক ফুটবলাররা খুবই মেপে মেপে সালাদ কিংবা প্রোটিন খান। সেখানে হালান্দের পছন্দ আস্ত কলিজা বা আস্ত হৃৎপিণ্ড। তার নিজের কথা, কসাইয়ের কাছ থেকে আনা তাজা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খাওয়া নাকি তার পেশিশক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তিনি যে পানি পান করেন তাও একটি জটিল ফিল্টারিংয়ের মধ্যে দিয়ে আসে। ঘুম থেকে উঠে সরাসরি সূর্যের আলোর দিকে তাকান। তার ভাষায়, এটা আমার শরীরে মেটাবলিজমকে জাদুকরী শক্তিতে সচল করে। গান শুনেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অফিসিয়াল অ্যান্থেম শুনে তার সকাল শুরু হয়। ট্যাবলয়েড দুনিয়ায় অন্তহীন গল্প। বলা হয়ে থাকে- তার এক অবিশ্বাস্য পারিবারিক জিনগত ইতিহাস রয়েছে। জিনের এই মহাবিস্ফোরণের কারণেই মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন। যে রেকর্ড কেউই আজ পর্যন্ত ভাঙতে পারেননি।
পারিবারিক ইতিহাস বলছে, তিনি খুব জেদি। প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতেই থাকেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি ফুটবলার রয় কিন তার বাবা আলফি হালান্দের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছিলেন এক ফাউলের মাধ্যমে। ফুটবল-ভক্তরা সেটা জানেন। বাবার সেই অসমাপ্ত প্রতিশোধ নিতেই নাকি হালান্দ ম্যানচেস্টারে পা রাখেন। মাঠের ভেতরে তার উগ্র মেজাজ প্রতিদিনই বিতর্কের জন্ম দেয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে- আর্সেনালের বিপক্ষে গ্যাব্রিয়েলের মাথায় পেছন থেকে বল ছুড়ে মেরে এক খণ্ডযুদ্ধের সূত্রপাত করেছিলেন হালান্দ। প্রিমিয়ার লিগের ফুটবল পাড়ায় এ নিয়ে তোলপাড় হয় সে সময়। হালান্দের কোচ পেপ গার্দিওয়ালা তাকে নিয়ে গর্ব করেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা তার ভয়ে ভীত থাকেন। কোচ গার্দিওয়ালা প্রায়ই বলেন, হালান্দ হচ্ছেন নিয়ন্ত্রণহীন এক দানব। যাকে থামানোর কোনো সূত্র আধুনিক ফুটবলে নেই। তার গতি এবং শারীরিক শক্তির সামনে দাঁড়াতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা ভয় পান। হালান্দ বিশ্বাস করেন-আধুনিক ফুটবলের সিংহাসন দখল করা সহজ কাজ নয়। আর এটা করতে হলে হতে হবে অসাধারণ। এক জ্যান্ত দানব হয়ে ওঠা ছাড়া বিকল্প নেই।
