আলেমদের সম্মান ঈমানী দায়িত্ব

আহলান-সাহলান মাহে রমজান

আলেমদের সম্মান ঈমানী দায়িত্ব

ফন্ট সাইজ:

ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে বলে ইতিমধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এটাকে উৎসব ভাতা বলে অভিহিত করা হয়েছে। সমাজ, দেশ ও ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারের এ উদ্যোগ আলেমদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া।
হাদিসের ভাষায় আলেমের মর্যাদা-

আলেমরা সম্মানিত: উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘ওই ব্যক্তি আমার আদর্শের ওপর নাই, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২১৪৩)

আলেমরা নবীদের ওয়ারিশ: আল্লাহতায়ালার বান্দাদের মধ্যে প্রিয় হচ্ছেন নবীগণ। একজন সত্যিকারের আলেম নবীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে মর্যাদা পান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলেমের মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ করেন, ‘আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী, আর নবীরা উত্তরাধিকার হিসেবে দিনার ও দিরহাম (অর্থকড়ি) রেখে যাননি। তারা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন ইলম। অতএব, যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করেছে, সে বিপুল অংশ লাভ করেছে। (সুনানু আবী দাউদ, হাদিস: ৩৬৪৩)

মৃত্যুর পরও আলেমের নেক আমল জারি থাকে: মানুষ মৃত্যুবরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আলেমের আমল জারি থাকে। একজন আলেম জীবিত অবস্থায় ইলম বিতরণ করার কারণে অনেকে উপকৃত হয়েছেন। সেজন্য মৃত্যুবরণ করার পরও তার সওয়াব তিনি পেতে থাকবেন।

সকল সৃষ্টি আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে: কোরআন-সুন্নাহ’র ইলমে সমৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য বড়ই সুসংবাদ যে, তার জন্য আল্লাহর নিকট সকলেই ক্ষমা প্রার্থনা করে।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘ইলমের অধিকারী ব্যক্তির জন্য সব কিছুই ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি সমুদ্রের মাছও।’ (মুসনাদু আবী ইআ’লা: ২/২৬০)

আল্লাহতায়ালা আলেমদের শান ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন, কোরআনে বর্ণিত হয়েছে- আল্লাহ তায়ালা সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, এবং ফেরেশতাগণ, আলেমগণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। (সূরা আলে ইমরান-৩)