উজানের ঢল এবার নামলো দেরিতে। যে ঢল নামা শুরু হয় বৈশাখের প্রথম থেকেই। অতিবৃষ্টি হলে উজানের ভারতে মেঘালয়ের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় অবিরাম বর্ষণ হয়। আর ওই বর্ষণের পানি প্রবল বেগে নামে সিলেট দিয়ে। ঢলের কারণে রোববার সকাল থেকে সতর্কতা হিসেবে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট জাফলং ও সাদাপাথরকে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের তরফ থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিলেটের সাদাপাথর। মেঘালয়ের পাদদেশে সিলেটের সীমান্তঘেঁষা একটি পর্যটনস্পট। ধলাই নদীর উৎসমুখে সাদাপাথরের অবস্থান।
ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার একটু পানি বেড়েছিল। পর্যটকরা যেতে পেরেছেন। মধ্যরাতের পর ঢল নামা শুরু হয়। আর এই ঢলে সাদাপাথরের থাকা অস্থায়ী দোকানপাটের সব মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সকালে ব্যবসায়ীরা গিয়ে দেখেন সাদাপাথর জুড়ে পানি আর পানি। উঁচু স্থানও হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। ফলে পর্যটক যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ঢল। এই অবস্থায় কোম্পানীগঞ্জের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাদাপাথর পর্যটনস্পটকে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, ঢল নামায় সাদাপাথরে পানি বেড়েছে। ঢলের কারণে ওখানে পর্যটকদের না যেতে আপাতত বারণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেখানে পর্যটকদের ঢুকতে দেয়া হবে। একই অবস্থা সিলেটের আরেক পর্যটনস্পট জাফলংয়েও। শনিবার মধ্যরাতে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী থেকে প্রবল বেগে ঢল নামা শুরু হয়। সকালে নদীর উৎসমুখ পানিতে তলিয়ে যায়। এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ছাড়া আর কেউ ওই এলাকায় যেতে পারছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়াকাড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঢল নামলে পর্যটনের মূল স্পটে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। অনেকেই ঢলের তোড়ে ভেসে যেতে পারেন। সেই আশঙ্কায় ওই এলাকায় পর্যটকদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ওই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক বলে জানান তারা। জাফলংয়ে মূল স্পটে অনেক অস্থায়ী দোকানপাট বসে। ঢলের তোড়ে অনেক ব্যবসায়ীর আসবাবপত্র ভেসে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এতে তারাও লোকসানে পড়েছেন। এদিকে এবার এখনো বন্যার দেখা নেই সিলেটে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও নদ-নদীতে পানি নেই। তবে গত দু’দিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে পানি বাড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত মৌসুমে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ। এরপর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৩৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এর প্রভাব সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের নদ-নদীতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছেÑ এই বৃষ্টিপাত আরও অন্তত কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছেÑ সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু’একদিনের মধ্যে নদীগুলোর একাধিক পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, উজানে বিশেষ করে মেঘালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
