হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকির অভিযোগে বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিবি পুলিশের একটি দল হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যায় তাকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগালের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারের বিরুদ্ধে। অডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে আটক করা হয়। তুষার বাহুবল উপজেলার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা।
এ ব্যাপারে দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস জানান, রোববার দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে তুষারকে আটকের প্রতিবাদে ঢাকা সিলেট মাহসড়কের মিরপুরে অবরোধ করেন উপজেলা বিএনপি’র নেতাকর্মী ও তার অনুসারীরা। শনিবার দুপুর ২টা থেকে ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। নেতাকর্মীদের দাবি, সম্পূর্ণ অডিও প্রকাশ না করে কেটে নেয়া অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা কথোপকথনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ভয়েস প্রকাশের দাবি জানান। পরে রমজানে মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। এসময়ের মধ্যে মুক্তি না দেয়া হলে পুনরায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলামের অপসারণের দাবি জানান তারা।

Jahangir alam
৪ মাস আগেhe should big punished