নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের প্রত্যয় অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরের

ফন্ট সাইজ:

বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং কোনো মামলা পরিচালনায় রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়নি বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল। একই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিহিংসা নয়, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তারা এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় তিন মাসে কোনো মামলায় কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক চাপ, প্রত্যাশা বা নির্দেশনা পাননি। তিনি বলেন, সরকারের প্রত্যাশা হলো আইন কর্মকর্তারা সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলীর বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের কাছে ন্যায়বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। অন্যথায়, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে না। তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হলে রাষ্ট্রকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

মামলার জট নিরসনে প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, বিচারক সংকট, দক্ষতার ঘাটতি এবং অতীতের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিপুলসংখ্যক মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির গঠিত বিশেষ বেঞ্চের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে থাকা আসামিদেরও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উত্থাপন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ পাস, কার্ড বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বিচারাধীন মামলার শুনানিকালে আদালতের মন্তব্য প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রচারিত হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা পুনঃতদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় ফেরত পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে নিরপেক্ষভাবে সব মামলার বিচার সম্পন্ন করতে।’

তিনি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দু’টি ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৩০টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিদিনই সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিদ্যমান দু’টি ট্রাইব্যুনালের উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাড়াহুড়ো করতে চান না। তার মতে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রসিকিউশন টিমের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো এবং তদন্ত সংস্থার জনবল বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিহিংসামূলক, মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ যাতে বিচারের পর্যায়ে না আসে, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আলীসহ সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন