প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দু’টি দেশ সফরকে কেন্দ্র করে কেন জানি আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের উস্কানি এবং এক ধরনের নেতিবাচক পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করার প্রচেষ্টা চলছে। এটা কিন্তু খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ। দেশে নানাভাবে বিভিন্ন ধরনের উস্কানির একটা আবছা ইঙ্গিত পাচ্ছি।
শনিবার রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ন্যাশনালিস্ট আইসিটি ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি শিল্প ২০৩০: চ্যালেঞ্জ, সুযোগ ও কৌশলগত সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, বর্তমান সরকারপ্রধান তার প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। হয়তো আজকেই যাত্রা শুরু করবেন। এর মধ্যে একটি দেশে রোববার যাবেন। তো এর সঙ্গে দুই-একটি দেশ সফর করবেন। কিন্তু এই সফরকে কেন্দ্র করে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের উস্কানি এবং এক ধরনের নেতিবাচক পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করার প্রচেষ্টা চলছে। এটা কিন্তু খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি বলেন, বহুদিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকার এসেছে। মানুষের প্রত্যাশা অনেক এই সরকারের কাছে।
সরকারের যে রাজনৈতিক দল, তার নামের আগে একটি জাতীয়তাবাদী শব্দ আছে। অর্থাৎ যে শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র। এই সরকার এমন কিছু করবে না, যেখানে আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন হয়। এই জাতীয়তাবাদী শব্দ থাকার কারণে এই সরকারের প্রকৃতিটা এমনই- এমন কিছু করবে না, যাতে আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিদিন একটু একটু করে দুর্বল হয়। সে কাজ তো করবে না। সুতরাং এই সরকারকে অনেক চক্রান্ত, অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগুতে হবে। রিজভী বলেন, দেশের স্বার্থে ও কল্যাণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে আমাদের কেউ শত্রু নেই, আবার কেউ প্রভুও নেই। সকলেই আমাদের বন্ধু। এটি হচ্ছে মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি ঘোষিত নীতি। সেই নীতির ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান সরকারপ্রধান তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলা এবং আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ-সবকিছু ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়িয়ে তোলার জন্য একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি থাকতে হবে। সেই নীতির ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন দেশে আমাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। তারই অংশ হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী রোববার দু’টি দেশ সফরে যাচ্ছেন।
এটা আমি আগেই বলেছি। রিজভী আরও বলেন, কেন জানি আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, বাংলাদেশে নানাভাবে বিভিন্ন ধরনের উস্কানির একটা আবছা ইঙ্গিত পাচ্ছি। বিভিন্ন কথা-বার্তায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। যাই হোক, আমি ওই প্রসঙ্গে যাবো না। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, এবারের বাজেটে আমি যেটা দেখলাম, একটি ঘোষিত নীতি নেয়া হয়েছে সফটওয়্যার এবং আইটি খাতকে কেন্দ্র করে।
সেটা হচ্ছে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ এবং ‘ওয়ান ডিজিটাল, ওয়ান ওয়ালেট’। এটি সরকারের একটি ঘোষিত নীতি। সেখানে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের মডেল থেকে নয় বরং আমরা পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাটাকেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবো। এটাই ঘোষিত নীতি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিএফটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাফায়েল কবির, উপদেষ্টা ডা. মারুফ মল্লিক, ডা. শাহ জেড মিয়া প্রমুখ।
