চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এমন অবস্থায় ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন কার্যক্রম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সংস্থাটিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস দিতেও ঋণ করতে হয়। অর্থ সংকটের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনীয় কাজ বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করে সংস্থাটি। আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) শাহরিয়া জামিল গত ২১শে মে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য (সচিব)-এর কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ডিএসসিসি’র প্রশাসক মো. আবদুস সালাম গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছে বিশেষ বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পরিচালক (প্রশাসন) শাহরিয়া জামিল স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনামূলক চিঠি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, মাস্টার ড্রেনেজ লাইন ও সড়ক সংস্কারের জন্য তিনটি প্রকল্পের জন্য ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনকে পর্যালোচনার জন্য বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ডিএসসিসি’র একটি প্রতিনিধিদল পরিকল্পনা কমিশনে যায়। তারা প্রকল্পের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করেন।
ডিএসসিসি’র আবেদনে বলা হয়েছে, নিউমার্কেট, বিজিবি এলাকা, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও বকশিবাজার এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ আউটলেট ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ লাইন নেই। এজন্য বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে ডিএসসিসি’র নিজস্ব তহবিলেও পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তিনটি প্রকল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়। এর মধ্যে নিউমার্কেট ও বিজিবি এলাকা হয়ে নবাবগঞ্জ স্লুইস গেট পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মাস্টার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণে ১২০ কোটি টাকা; ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, বুয়েট, বকশিবাজার ও চকবাজার হয়ে সোয়ারিঘাট পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার মাস্টার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের জন্য ৬০ কোটি টাকা এবং দক্ষিণ সিটির ১০টি অঞ্চলের প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রধান সড়ক সংস্কারের জন্য আরও ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করেছে সংস্থাটি।
এদিকে ডিএসসিসি’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) শাহরিয়া জামিল গত ২১শে মে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য (সচিব)-এর কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে, ডিএসসিসি’র প্রশাসক ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম ইতিমধ্যে এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান। গত ৪ঠা মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত কয়েক মাসে প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় হয়নি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সিটি করপোরেশন অর্থসংকটে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত প্রশাসনের সময় যেভাবে ঢালাওভাবে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সিটি করপোরেশন কার্যত ধসে পড়বে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, এপ্রিল মাসে অর্থসংকটের কারণে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনটি আমলে নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনকে পর্যলোচনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে চলতি অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কারণ হিসেবে আবেদন করতে দেরি হয়েছে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।
