স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে একটি ফোকলা অর্থনীতি রেখে গিয়েছিল ফ্যাসিস্টরা। এদেশকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল।
সেখান থেকে সেই অর্থনীতিকে টেনে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আজকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আশাবাদী। শনিবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। যেটা তার পিতা চেয়েছিলেন, যেটা তার মা চেয়েছিলেন। আমরা যারা তার সঙ্গে কাজ করছি, আমরা দেখছি তিনি একজন কাজপাগল মানুষ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনরাত কাজ করেন। এই মানুষটি আজ সমগ্র দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য হাত দিয়েছেন এবং তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে খাল খনন শুরু করেছেন। আমাদের যে সমস্ত খালগুলো মরে গিয়েছিল, সেগুলো উদ্ধার শুরু করেছেন। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেয়া শুরু করেছেন। কৃষকরা যেন কৃষি উপকরণ, সার ও বীজ ন্যায্যমূল্যে পান, সেজন্য কৃষক কার্ড করেছেন। দেশের সকল শিশুর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আজকে মুন্সীগঞ্জে আমরা অনেকগুলো সমস্যা দেখেছি। আমরা প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে দেখিয়েছি আপনাদের যে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে- রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট আমরা এমন একটি প্রকল্প তৈরি করতে পারি, যার মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের সমস্যার সমাধান করা যাবে। আমি আশা করবো, আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এ কাজগুলো করতে সক্ষম হবো। সভায় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফাহিমা নাসরিন, মাহমুদা হাবিবা ও মমতাজ আলো প্রমুখ।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে কালিদাস সাগর নদের উপর ১২২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আশ্বাস দেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি উত্তর ইসলামপুর সামাজিক কবরস্থানে যান। সেখানে জুলাই শহীদ সজল মোল্লা, রিয়াজুল ফরাজী ও নুর মোহাম্মদের কবর জিয়ারত করেন।
