সিলেটে ছাত্রলীগের মিছিলের পর সতর্ক অবস্থান পুলিশের

ফন্ট সাইজ:

বুধবার সিলেট হয়ে মৌলভীবাজার সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরের আগের দিন নগরে মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই মিছিলকে ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বেশি। কারন, দীর্ঘদিন পর ছাত্রলীগের কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে মিছিল করেছে। আর তারা এমন সময় বেছে নিয়েছে- যেটি প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগের দিন। ৫ই আগস্টের পর সিলেটে ছাত্রলীগের সংগঠিত মিছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এতে অর্ধশতাধিক কর্মী উপস্থিত ছিল। তবে মিছিলে পুলিশের ধরপাকড় না হলেও মোটরসাইকেলে আসা যুবকরা ছাত্রলীগের ৪ কর্মীকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে।

এই মিছিলের পর ঘুম হারাম হয়ে যায় নগর পুলিশের। প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পেয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার মামলা করেছে। মামলায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সিলেটের কোতোয়ালি থানায় এসআই মাসুদ আহমদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- নগরের নয়াসড়ক এলাকার ইব্রাহিম মোস্তফা মাহী, কালিবাড়ি শাহ্‌জালাল আবাসিক এলাকার সানিয়াদ আহমদ, একই এলাকার আশরাফুল আহমদ শাহী, নোয়াপাড়া এলাকার রেদোয়ান আহমদ রাব্বী, মুন্সিপাড়া এলাকার মো. সাবিক আহমদ এবং বিলপাড় এলাকার ফুয়াদ আহমদ। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ থাকা অন্যদের মধ্যে মহানগর ও জেলার ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক সাবেক ও বর্তমান নেতা রয়েছে। মামলার আসামিরা হলো- সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদার, করেরপাড়ার বাসিন্দা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা তানভীর আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ হোসেন খান, সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফাহিম আহমদ, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সঞ্জয় সরকার, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দীপরাজ দাশ দিপায়ন, শাহপরান মুক্তিরচকের সাহেল হোসেন, হাওলাদারপাড়ার তারেকুর রহমান রাফি, মোহাম্মদ আবাসিক এলাকার সাব্বির খান, ১১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়ামিন আহমদ সোহান, জালালাবাদ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম কান্তি দাশ, বিলপাড় ৪২ নম্বর বাসার ফুয়াদ আহমদ, মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান মনির, কালিবাড়ির সমর সরকার, ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি লিজন, ১৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান রাহি, ছাত্রলীগকর্মী ঘাসিটুলা মরাটিলার তরিকুল ইসলাম ও মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. লাবলু আহমদ।

তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. মাইনুল জাকির গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে পুলিশ অভিযানে রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এ মিছিলের জন্য পুলিশ সিনিয়র কয়েকজন নেতাকে টার্গেট করেছে। সামাদ ও সুজেল রয়েছে এই তালিকায়।

মূলত তাদের নেতৃত্বে এই মিছিল বের করা হয়। তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানান তারা। এদিকে মিছিলের ঘটনায় নগরের পাঠানটুলা ও কালিবাড়ি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। ওই এলাকায় বাড়ি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুজেলের। এ মিছিলের আয়োজক হিসেবে তাকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার পর সুজেলের বাসা ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে ৫ই আগস্টের পর সুজেলকে ওই এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানায় স্থানীয়রা। এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতেও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। কোনো ইস্যুতে যাতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সড়কে নামতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি চলছে বলে জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মনজুরুল আলম। তিনি জানান, একটি মিছিলের ঘটনায় নগরীতে পুলিশের নজরদারি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এই রকম কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। নগরীতে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন