১৬ মাস ধরে অচলাবস্থায় টাউন হল বণিক সমিতি

১৬ মাস ধরে অচলাবস্থায় টাউন হল বণিক সমিতি

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার। প্রায় ৫ হাজার ব্যবসায়ী-কর্মচারীর স্বার্থ রক্ষার্থে বাজার ও সমবায় নীতিমালার অধীনে বহু বছর আগেই গঠিত হয় ‘মোহাম্মদপুর টাউন হল (কাঁচাবাজার) বণিক সমিতি’। নিয়মিত ভোটগ্রহণের মাধ্যমে পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়। তবে ২০২৫ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি এই বাজার কমিটির ওপর নজর পড়ে একটি অসাধু চক্রের। বাজারটির সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- ওই চক্রটিই টাকা দিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সভাপতিসহ অন্যদের বাজার থেকে দূরে রেখেছেন। বণিক সমিতির অফিস দখলে নিয়ে যা খুশি তাই করে চলেছেন। বিষয়টি নিয়ে থানাসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানালেও আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে বাজারটির একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বাজার পরিচালনার জন্য প্রতি তিন বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদপুর টাউন হল (কাঁচাবাজার) বণিক সমিতির নির্বাচন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই ত্রিবার্ষিকী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ত্রিবার্ষিকী নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন মো. লুৎফর রহমান বাবুল। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মো. শাহ্‌জাহান খান। নির্বাচনের পরে সব ঠিকঠাকই চলছিল। তবে এরই মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ বহিরাগত একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে মব তৈরি করে। তারা বাবুলের পদত্যাগ চান বলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর থেকেই পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। দেয়া হয় হুমকি-ধমকি। হুমকি পেয়ে সমিতির অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দেন বাবুল। আর এই সুযোগে সমিতির অফিস দখলে নেন নুরুল ইসলাম নুর, জাহিদ শেখ, মোরশেদ আলমসহ মুষ্টিমেয় কয়েকজন। সাধারণ ব্যবসায়ীদের কোনো মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই বিভিন্ন পদ ভাগবাটোয়ারা করে নেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোনো নির্বাচন ছাড়া সমিতি দখলে নিয়ে নিজেকে সভাপতি দাবি করে এই নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন।

তার ছেলে নাঈম ইসলাম মোহাম্মদপুর থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। ছেলের দাপট ও স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়েই আমাদের ওপর চেপে বসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও দুই দফা মোহাম্মদপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই আমরা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির নির্বাচিত সভাপতি মো. লুৎফর রহমান বাবুল বলেন, আমি একবার নয় একাধিকবার এই বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকঢোল পিটিয়ে সকলের সামনে নির্বাচন হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা আমাকে ভালো না বাসলে তো আর ভোট দেয়নি। কিন্তু ইউনূস সরকারের আমলে যেই মব কালচার শুরু হয় তার হাত থেকে আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী বাজারও রক্ষা পাইনি। তাই সাধারণ ব্যবসায়ীদের মঙ্গলেই আমি সেখান থেকে সরে এসেছি। তবে এখন সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেই দুর্দশার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে তা আর চোখে দেখা যাচ্ছে না। আমরা সকলেই এর প্রতিকার চাই।

তবে এই বিষয়ে নির্বাচন ছাড়াই নিজেকে মোহাম্মদপুর টাউন হল (কাঁচাবাজার) বণিক সমিতির সভাপতি দাবি করা নুরুল ইসলাম নুর বলেন, আসলে আমি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হলেও সাধারণ মানুষ আমাকে চেয়েছে। তাই আমি এখানে পদে বসেছি এখানে কোনো দখলের বিষয় নেই। এখন এমন অভিযোগ তো অনেক আসে, কতোগুলোর জবাব দিবো। ছেলে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে নাঈম ৩১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি এটা ঠিক আছে তবে তার বিরুদ্ধে তো এখন আর কোনো খারাপ রিপোর্ট নেই। সপ্তাহে মাত্র শনিবার সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টাই বণিক সমিতির অফিসে বসেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় আমি এই থানায় পোস্টিংয়ে ছিলাম না। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমার তেমন একটা জানা নেই। তবে এই বিষয়ে যথাযথ যাচাই বাছাই করে আমরা ব্যবস্থা নিবো। শুধু টাউন হল নয় যেকোনো বিষয়ে কেউ যদি আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন