ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক জেপি নেতা বাবুগঞ্জের গোলাম ফারুক অভির দেশে ফেরার গুঞ্জন জোরালো ছিল। তিনি দেশে এসে জাপা অথবা বিএনপি’র ব্যানারে নির্বাচন করবেন এমনটা ছিল বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার নিত্যদিনের শিরোনাম। কিন্তু সকল জল্পনায় জল ঢেলে অভি দেশে ফিরতে পারেননি। অভির দেশে না ফেরার কারণ নির্বাচনী ডামাডোলে চাপা পড়ে গেলেও গত ২দিন আগে আবার সামনে আসে। সরকার ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির ৬০ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ করে। সেখানে অভির নামটি এখনো জ্বল জ্বল করছে। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় বাংলাদেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার হতেন এমন আশঙ্কায় গোলাম ফারুক অভি দেশে ফেরেননি এটি এখন নিশ্চিত বলা চলে।
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার অবশ্য বিএনপি থেকেই শুরু হয়। বরিশালের উজিরপুরের সন্তান গোলাম ফারুক অভি ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ১৯৯৬ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলালকে পরাজিত করেছিলেন অভি। ১৯৯৬ সালে অবশ্য উজিরপুর-বাবুগঞ্জ নিয়ে বরিশাল-২ আসন ছিল। পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা মুলাদীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বরিশাল-৩ এবং উজিরপুরের সঙ্গে বানারীপাড়া যুক্ত হয়ে বরিশাল-২ নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠিত হয়।
এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যান অভি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০২ সালে দেশ ছাড়েন তিনি। আলোচিত মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যাসহ রাজনৈতিক একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল অভির ওপর। এ কারণে টানা ২৩ বছর থেকে যান কানাডায়। সে সময়েই অভিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা হয়। রেড নোটিশ জারির পর থেকেই অভি আর দেশে ফেরার উদ্যোগ নেননি। যদিও গত বছরের ১৪ই জানুয়ারি মডেল তিন্নি হত্যা মামলা থেকে খালাস পান অভি।
এরপরই তার দেশে ফেরার গুঞ্জন জোরালো হয়। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন, কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও শোনা গিয়েছিল। হত্যা মামলা থেকে খালাস পেলেও ইন্টারপোলের রেড নোটিশে অভির নামটি এখনো রয়ে গেছে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের পর ফের আলোচনায় এসেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। তবে তার নামে রেড নোটিশ জারি হলেও তা ওয়েবসাইটের ওয়ান্টেড তালিকায় প্রকাশ করা হয়নি। হত্যা মামলায় খালাস পেলেও রেড নোটিশে রয়ে গেছে অভির নামটি।
