প্রথম আলো
‘টিকা ক্যাম্পেইনের পরও হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামের টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে এক মাস আগে—২০ মে। তবু হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মৃত্যু কমলেও হামের উপসর্গ নিয়ে এখনো প্রতিদিন গড়ে এক হাজার রোগী আসছে হাসপাতালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁদের পরামর্শ শুনছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ বলছে, হামের উপসর্গ ও হামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়া–কমার মধ্যে আছে। সংস্থাটির ৯ জুন বিতরণ করা সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, ১ থেকে ৭ জুন—এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহের তুলনায় (২৫–৩১ মে) হামের উপসর্গ নিয়ে ও নিশ্চিত হামে মৃত্যু কমেছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ব্যক্তি বা নিশ্চিত হামের রোগী সামান্য বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার প্রবণতা আমরা লক্ষ করছি। মে মাসের তুলনায় জুনে আক্রান্তের সংখ্যা কম। আশা করছি, জুনের শেষ নাগাদ সংক্রমণ আরও কমে আসবে।’
হামের সংক্রমণ কমে আসা আর হাম নিয়ন্ত্রণে আসা এক কথা নয়। মার্চ মাসের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সরকার হাম–রুবেলার টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করেছিল ৫ এপ্রিল। এই ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে ২০ মে। অর্থাৎ এক মাস বা চার সপ্তাহ আগে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও টিকাবিশেষজ্ঞরা বলেন, হামের টিকা দেওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শিশুর শরীরে হামের প্রতিরোধক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) গড়ে ওঠে। জাতীয় ক্যাম্পেইন চার সপ্তাহ পরও গড়ে দৈনিক হাজারের বেশি শিশু কেন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ আছে।
গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত) সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ৭৮ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪ জন। এই সময় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৬ জনের। আর তিন হাজারের বেশি মানুষ হাম নিয়ে সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামে আক্রান্ত রোগী বা হামের উপসর্গ নিয়ে মানুষ যদি হাসপাতালে আসা বন্ধ হয়, হামে যদি মৃত্যু না হয় তাহলে বুঝতে হবে, হাম নিয়ন্ত্রণে আছে।
তথ্যের ঘাটতি, প্রশ্নের উত্তর নেই
জাতীয় টিকা ক্যাম্পেইনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ছয় মাসের কম বয়সী এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বয়সভিত্তিক কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না। এমনকি টিকা দেওয়ার পর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেড়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে না।
এসব কাজের মূল দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি)। কিন্তু এই শাখা থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গতকাল মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এই শাখার পরিচালক ফোন ধরেননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) কিছু কাজ দ্রুত শুরু করবে। সেখানে নতুন পরিচালক দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা দেওয়ার পর প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠছে কি না, অর্থাৎ টিকায় কাজ হলো কি না, তা যেমন দেখা দরকার, পাশাপাশি সংক্রমণ যেন না ছড়ায়, তারও উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে পরিবারে, সমাজে ও হাসপাতালে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। যেমন: ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর হাম হলে তাকে ‘আইসোলেট’ বা আলাদা করে রাখতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে বা সাধারণ মানুষের করণীয় বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। এর মধ্যে ছিল হাসপাতালের বহির্বিভাগে জ্বর ও শরীরে র্যাশ থাকা রোগীদের অন্যদের থেকে আলাদা করার ব্যবস্থা (ট্রাইএজ) করা; হাসপাতালে দরজা–জানালা খোলা রাখা; সেবাদানকারীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা; সাবান–পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং হাসপাতালে ভিজিটর নিয়ন্ত্রণ করা। এসব করা হচ্ছে বলে মনে হয় না।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘বগুড়ার ঘটনা নিয়ে সরকারে অস্বস্তি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি এলাকা বগুড়ার শিবগঞ্জে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ এবং এ সংক্রান্ত ঘটনাবলি নিয়ে বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানা গেছে; কিন্তু এর আগেই কয়েকদিনের ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্রমাগত এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে বগুড়ায় যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে সরকারের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে ‘প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে’-এমন আলোচনায় এ ঘটনার দায় কেউ কেউ সরকারের ওপর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, সরকারের মেয়াদের চার মাসের মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা দলের অগ্রযাত্রায় কিছুটা ধাক্কা বা ছেদ তৈরি করতে পারে; যাতে দীর্ঘ মেয়াদে বিএনপির সুনামের ক্ষতি হতে পারে।
তবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু ইউনিয়নের নামকরণের সঙ্গে আমার সন্তানের নামের আংশিক কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে, তাই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলেছি। ওই নাম থাকবে না, নতুন নামে হবে।’ সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘এই বগুড়া জেলা ২০ বছর উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। আমরা উন্নয়নের কথা বলতে পারিনি। চেষ্টা করেছি হয়তো অনেকেই যারা উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু বগুড়া হিসাবে সব সময় আমাদের বঞ্চনার চোখে দেখা হয়েছে। এখন এই বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যখন আমরা কাজ শুরু করেছি, তখন নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়ার জন্য কিছু বিষয়কে খুব জোরালোভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে।’
সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের সাম্প্রতিককালের ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে সরকারে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকের ধারণা, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতি মূলত মানুষের কল্যাণের জন্য, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। অতীতে পরিবারতন্ত্রের যে ভয়াবহ পরিণতি দেশ দেখেছে, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। পদ-পদবি ব্যবহার করে যেন ভবিষ্যতে শুধু মানুষের কল্যাণে কাজ করা হয়, সেটাই প্রত্যাশিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ী এবং তিনি জনগণের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একজন প্রভাবশালী তরুণ প্রতিমন্ত্রী যে আচরণ করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর এই বিনয়ী ও জনবান্ধব নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, দলে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা অহেতুক ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন এবং মানুষের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক তৈরি করেন। এই ধরনের আচরণ প্রধানমন্ত্রীর মূল ভিশন বা দূরদর্শিতার পরিপন্থি।
কালের কণ্ঠ
‘প্রাধান্য পাবে বিনিয়োগ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তিনি।
তারই অংশ হিসেবে প্রথমে আগামীকাল ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে সরাসরি আগামী ২৩-২৬ জুন চার দিনের চীন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-চীন বিতর্ক এড়িয়ে সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রথমে মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার ও এফটিএ চুক্তি।
পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও দেশটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই দুই দেশ সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রধানত চীনা বিনিয়োগ ও সফট লোনের বিষয় প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া আলোচনায় প্রাধান্য পাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাংলাদেশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা ব্যারাজ, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), বেসামরিক ও সামরিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ প্রসঙ্গ।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে কেন্দ্র করে ১৪ থেকে ১৬টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এসব চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুন বেইজিংয়ে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য থাকবে চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘রাজধানীতে হকার ছয় লাখ বসার ব্যবস্থা ৪ হাজারের’। খবরে বলা হয়, হকার ইস্যুতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাস্তা-ফুটপাতে রং দিয়ে বসার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সে উদ্যোগ বাস্তবায়নে এখন দুই সংস্থার গলদঘর্ম দশা! কারণ নতুন পদ্ধতিতে এত বিপুলসংখ্যক হকারের বসার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
ঢাকা মহানগরীতে হকার সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। খুব কম স্থানই আছে, যেখানে নীতিমালা অনুসরণ করে হকার বসার ব্যবস্থা করা যায়। নীতিমালা মেনে দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার হকারের জন্য স্থান পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর হকারদের শৃঙ্খলায় আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাদের উদ্যোগে হকার নীতিমালা-২০২৬ প্রণয়ন করে সরকার। সে নীতিমালা অনুসরণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে রমনা ভবনের পাশের সড়কে ৪০০ হকারকে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররমে ক্রীড়া পরিষদের পাশে ৪৫০, ফুলবাড়িয়ায় ১৫০, নিউমার্কেট দক্ষিণ গেটে ২৫০, নিউমার্কেট বটতলা থেকে বিজিবি গেট পর্যন্ত এলাকায় ১০০ হকার বসছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ৯০০ হকার রাস্তা-ফুটপাতে বসার সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটিতে দুই হাজার হকারের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে সর্বোচ্চ এক লাখ হকারের বসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বাকি পাঁচ লাখ হকারকে বসানো এখন দুশ্চিন্তার বিষয়।
এত হকার বসবে কোথায়
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আরও কিছু জায়গা হকারের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে সেখানে এখনও হকার বসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রাজউক ভবনের পেছন থেকে একটি সড়ক রয়েছে মতিঝিলের ইউনুস সেন্টার পর্যন্ত। ওই সড়কে যানবাহন তেমন চলে না। সেখানে ২০০ হকারকে বসানোর ব্যবস্থা করা যাবে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীতে এজিবি কলোনির খেলার মাঠের চারপাশে থাকা রাস্তার একটি লেনে হকার বসাতে চায়। সেখানে আরও ৪০০ হকার বসানো সম্ভব। মতিঝিলের ইসলাম চেম্বারের পেছনের সড়কে ২০০ হকার বসানো যেতে পারে। শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘের মাঠের চারপাশের রাস্তার একপাশে আরও ৪০০ হকার বসতে পারে। এভাবে আরও সর্বোচ্চ দুই হাজার হকারকে জায়গা নির্দিষ্ট করে বসানো সম্ভব। তবে ডিএসসিসি এলাকায় বর্তমানে হকারের সংখ্যা প্রায় চার লাখ। তাহলে বাকি হকারের বসার ব্যবস্থার কী হবে?
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ মিরপুর ১০ ও ১৪ নম্বর এলাকায় আরও ৪৫০ হকারকে বসার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া শ্যামলীর রিংরোড ও মোহাম্মদপুর এলাকায়ও কিছু হকারের বসার ব্যবস্থা করতে চায় সংস্থাটি। এভাবে আরও কয়েকটি স্থান মিলিয়ে ঢাকা উত্তর হয়তো দুই হাজার হকারের ব্যবস্থা করতে পারবে। তবে ডিএনসিসি এলাকায় হকার আছে দুই লাখ। বাকিদের বসার জায়গা কোথায় হবে, তা বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে এসেছে।
ইত্তেফাক
‘স্কুলজীবন শুরুর আগেই কোচিংয়ে ৪০ লাখ শিশু’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, ১৬ বছর পর বাতিল হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি ব্যবস্থা। ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে হবে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বারবার আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এই পরীক্ষাগুলো হবে মূলত ‘নামমাত্র’, যার জন্য কোচিং সেন্টারে দৌড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তারপরও কোচিংয়ে ছুটছেন অভিভাবকরা। স্কুলজীবন শুরুর আগেই প্রথম শ্রেণির ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিতে সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ শিশু কোচিং শুরু করে দিয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ। সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা নেওয়া হলে, ভর্তিতে কোচিং বাণিজ্যের অর্থ দাঁড়ায় ২ হাজার কোটি টাকা। অভিভাবকদের অভিমত, যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, তাই কোচিং না করালে তাদের সন্তান ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা সন্তানদের কোচিংয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে ওপরের ক্লাসে ভালো স্কুলে ভর্তি হতে চাওয়া অনেক শিক্ষার্থী স্কুল ও কোচিং সেন্টারের দ্বৈত চাপে চরম মানসিক অবসাদের শিকার হচ্ছে।
গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের দেওয়া এক পরিপত্রে জানানো হয়, ‘বর্তমানে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম লটারির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আগামী ২০২৭ সাল থেকে এ পদ্ধতি বাতিল করা হবে। এর পরিবর্তে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’ গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে, ক্লাস ওয়ানের ব্যাপারে আমরা বলেছি, একটি নামমাত্র ভর্তি পরীক্ষা নেব। এখানে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার মতো কোনো ভর্তি পরীক্ষা না। কেউ সন্তানকে কোচিংয়ে দেবেন না। আমরা ‘ক্যাশমেন্ট এরিয়া’ (স্কুলের আশপাশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া) এবং ন্যূনতম ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সিট অনুযায়ী সেভাবে ব্যবস্থা করব।
দেশের বিবেকবান ও শিক্ষাসচেতন অভিভাবক-শিক্ষাবিদ-শিক্ষকরা বলেন, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পরীক্ষাটিকে যদি পরীক্ষা না বলে শিশু নির্যাতনের আয়োজন বলি, তাতে ভুক্তভোগী মানুষমাত্রই একমত পোষণ করবেন। আর এটা তো সবারই জানা যে তদবির-ঘুষ-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-ক্ষমতার দাপটসহ এমন কোনো দাওয়া নেই, যার চর্চা কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য হয় না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে ভর্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী একটি স্বার্থান্বেষী চক্র। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা—এ তিনের সমন্বয়েই অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত হতো শিক্ষার্থীর ভাগ্য। মতিঝিলের এক অভিভাবক মো. শহীদুল ইসলাম স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু পরে শুনলাম টাকার বিনিময়ে অনেকেই সুযোগ পেয়েছে। তখন মনে হয়েছিল, মেধার কোনো মূল্যই নেই।’ তবে লটারি পদ্ধতির কারণে এগুলোর চর্চা অনেকটাই কমে যায়। শিক্ষাবিদরা বলেন, কোচিং সংস্কৃতির প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক বা শিক্ষাগত নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও প্রভাব ফেলে। নির্দিষ্ট প্রশ্ন-উত্তর মুখস্থ করা, পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতি—এসবের ফলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তারা শেখার আনন্দ থেকে দূরে সরে গিয়ে কেবল নম্বরের পেছনে ছুটতে শুরু করে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি একটি জাতির চিন্তাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজধানীর ‘নামিদামি’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০১২ সাল থেকে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয় এবং এরপর থেকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল। এরপর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বাণিজ্য বন্ধের পাশাপাশি কোচিং ব্যবসায় ধস নামে। লটারি পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় সম্প্রতি কোচিং বাণিজ্য আবার চাঙ্গা হয়েছে। জানা গেছে, রাজধানীর ভালো স্কুলে ভর্তির গ্যারান্টিসহ নানা চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে অলিগলিতে খোলা হয়েছে ভর্তি কোচিং সেন্টার। পত্রিকার ভেতরে করে ঘরে ঘরে পাঠানো হচ্ছে লিফলেট; এসব লিফলেটে থাকছে কোচিং সেন্টারের স্কুলের শিক্ষক পরিচিতি, বিগত দিনে কোচিং করে কতজন নামকরা স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন সেসব শিক্ষার্থীর ছবিসহ চটকদার বিজ্ঞাপন।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতা খবর ‘বাংলাদেশকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক চাপ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে গত এক দশকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের অভূতপূর্ব বৃদ্ধি। একসময় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশকে মূলত উন্নয়নশীল অর্থনীতি, শ্রমবাজার কিংবা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানের বাস্তবতা ভিন্ন। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যপথ, আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প এবং চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি হামাসের প্রভাব বিস্তার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন। কূটনৈতিক ভাষায় এমন মন্তব্যকে সাধারণ কোনো বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ কম। কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বয়ান প্রায়ই রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা বহন করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য: বাংলাদেশ গত দুই দশকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০০৫ সালে জেএমবির দেশব্যাপী বোমা হামলা থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কগুলোকে দুর্বল করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিরাপত্তা মূল্যায়নেও বাংলাদেশকে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি নয়, কিন্তু পরোক্ষভাবে নিরাপত্তা উদ্বেগ উত্থাপন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ ধরনের বয়ান তৈরি করতে পারে। ইতিহাস বলে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রকে “নিরাপত্তা ঝুঁকি” বা “উগ্রপন্থার সম্ভাব্য ক্ষেত্র” হিসেবে চিত্রিত করা হলে তা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট ও বাংলাদেশের অবস্থান : ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই সুস্পষ্ট। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনো ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশের জনমত, রাজনৈতিক দল, ইসলামপন্থী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরে বড় বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গাজা ইস্যু ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল বর্তমানে শুধু সামরিক যুদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জনমত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও একটি কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি। ফলে যেসব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃশ্যমান অবস্থান নিচ্ছে, সেগুলোর প্রতি ইসরাইলি কূটনীতির বিশেষ নজর থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।
বণিক বার্তা
‘সুইফট সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এক দশক আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল পুরো বিশ্বেই। সুইফট পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এ অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনার পর বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। সুইফট নিজেও তাদের ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনে। এবার বাংলাদেশ ব্যাংক সুইফটের সুরক্ষায় যুক্ত করতে যাচ্ছে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস (এএমএল)। এ প্রযুক্তি সন্দেহজনক লেনদেন তাৎক্ষণাৎ স্থগিত করে দেবে। টুলস সক্রিয় থাকলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে বাড়তি নজরদারি থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত এগিয়ে নিতে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের সুপারিশে এ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট কক্ষের পরিবেশ ও নিরাপত্তাগত কিছু পরিবর্তনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, এএমএল টুলসের কাজ সুইফট সিস্টেমে আদান-প্রদান করা তথ্যের সত্যতা নিখুঁতভাবে যাচাই করা। ফলে যেকোনো ধরনের ভুয়া বা জালিয়াতিপূর্ণ তথ্য এ প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক লেনদেন স্থগিত করা সম্ভব হয়।
গত বছর সুইফট সার্ভার অডিট করানো হয় নিরীক্ষণ প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি বাংলাদেশের মাধ্যমে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ১৫টি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সুইফট সুরক্ষায় বেশকিছু সুপারিশও করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সুইফট সুরক্ষায় অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস যুক্ত করা। কেপিএমজি বাংলাদেশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইফট সিস্টেমের সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনা ছিল না এবং কোনো সমস্যা হলে আগের সিস্টেমে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি ছিল না। সেটি তৈরি করা হয়েছে। ফায়ারওয়াল রুলস এবং ভার্চুয়ালাইজেশন ডিজাইনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছিল না। সুপারিশের ভিত্তিতে সেটি পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রযুক্তিগত সম্পদের তালিকা আপডেট করা হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের অ্যাকসেস বা প্রিভিলেজড অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রডাকশন রানবুক এবং সিস্টেম ডিকমিশনিং পলিসির ঘাটতিগুলো দূর করা হয়েছে।
কেপিএমজি বাংলাদেশের মেহেদী হাসান বণিক বার্তাকে জানান, তারা বেশ কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিয়মিতভাবে সেগুলো ফলোআপ করছেন।
এরই মধ্যে সুপারিশ অনুযায়ী অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন বাস্তবায়িত সুইফট সিস্টেম গো লাইভ হওয়ার পর অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস যুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তা না হলে বর্তমান সিস্টেমে বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি লাইসেন্স নতুন করে কেনার প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সরকার আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য সুইফট ব্যবহার করে। সুইফটের নিজস্ব কিছু অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস রয়েছে। এগুলো মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপে ব্যাংকগুলো তাদের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে সুইফটের স্ক্রিনিং টুলের এপিআই যুক্ত করে দেয়। ফলে যেকোনো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট মেসেজ বা কাস্টমার ট্রান্সফার পাঠানোর আগেই সেটি সুইফটের ক্লাউড প্লাটফর্মে চলে যায়। দ্বিতীয় ধাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা যাচাই হয়। এ ধাপে সুইফটের সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই মেসেজে থাকা প্রেরক, প্রাপক, ব্যাংকের নাম এবং দেশের তথ্য বিশ্বের প্রধান প্রধান নিষেধাজ্ঞা তালিকার সঙ্গে যাচাই করে। সর্বশেষ ধাপে রয়েছে অ্যালার্ট এবং হোল্ড সিস্টেম। যদি কোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হয়, তবে টুলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘অ্যালার্ট’ তৈরি করে এবং লেনদেনটি সাময়িকভাবে আটকে দেয়। ব্যাংকের এএমএল কমপ্লায়েন্স অফিসার তখন ম্যানুয়ালি সেটি যাচাই করে ক্লিয়ারেন্স দিলে তবেই টাকা অন্য প্রান্তে পৌঁছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিন্দ্য ইকবাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সুইফটে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলসের জন্য যদি লোকাল টিম তৈরি করা যায় তাহলে সেটা সাসটেইনেবল হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনহাউজ টিম এবং তার সঙ্গে বাইরের কিছু বিশেষজ্ঞ নিয়ে তৈরি করা টিম। কিন্তু বিদেশ থেকে কিনে এনে বসিয়ে দিলে কতটুকু কাজ করবে, সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। এ টুলস শুধু যুক্ত করলেই হবে না, বরং এর নিয়মিত আপডেট করা প্রয়োজন হবে। বিশেষ মানি লন্ডারিংয়ের ধরন সময়ে সময়ে বদলায়। সে অনুযায়ী এ টুলসকে আপডেট করার প্রয়োজন হয়।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে করণীয় নির্ধারণে গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছিল। এ কমিটি সে বছর জুলাইয়ের প্রথম কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সার্ভার পরিদর্শন করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ কয়েকটি প্রকল্পের বিপরীতে আন্তর্জাতিক পেমেন্টের মাধ্যমে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে নেয়া হয় বলে জানিয়েছিল এ পর্যালোচনা কমিটি। সে সময় হ্যাকাররা দেশী প্রকল্পের বিল পরিশোধ দেখালেও টাকা বিদেশী অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারের নির্দেশনা দেয়। এক্ষেত্রে সুইফটে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুলস যুক্ত থাকলে এ ধরনের লেনদেন আটকে যেত।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর: মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার ও চীনের বিনিয়োগে জোর’। খবরে বলা হয়, সরকার গঠনের চার মাস পর দুদিনের প্রথম সরকারি সফরে আগামীকাল রোববার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকেই চার দিনের সফরে চীন যাবেন তিনি। দুই দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অন্তত দুই ডজন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজ শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে সফরের বিস্তারিত জানাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তির পর দুই দেশের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির চারটি উদ্যোগের অন্যতম জিডিআই বা বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের যুক্ততার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হলে উভয় দেশ থেকে বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এমন বার্তা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, এ নিয়ে বেশ জল্পনা ছিল। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর ভারতে হবে কি না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা ছিল।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতার আলোকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হতে পারে, তা নিয়ে সরকার ও দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর ভারতে না হলে চীনে হতে পারে বলে আলোচনা ছিল। তবে ভারত বা চীনের পরিবর্তে ভুটান বা সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের আগে মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো মাথায় রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইতিমধ্যে ভারত ও চীন সফর করেছেন। আর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীকল্যাণ-বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন এপ্রিলের শুরুতে মালয়েশিয়া সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং গিয়ে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
কাল রোববার বেলা ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশ রূপান্তর
‘ফাঁদে ফাইলবন্দি পরোয়ানা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত বছরের ২৩ অক্টোবর সাতক্ষীরা সদরে নাহিদ ও রিপনসহ তাদের বাহিনীর সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রমজান আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত রমজান আলীর মেজ ভাই আব্দুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। কিন্তু আসামিরা ধরা না পড়ায় বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে আদালত নাহিদ, রিপন, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল গফফার, জিল্লু, আব্দুল গফফারের স্ত্রী শাহানারা খাতুন, তাদের মেয়ে খুকু মনির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
নাম প্রকাশ না করে ফেনীর এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বছর তিনেক আগে একটি নারী নির্যাতন মামলায় দুই আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। অথচ তারা দিব্যি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আদালত থেকে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি করা হলেও তারা আছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এভাবে সারা দেশের থানাগুলোতে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে হাজার হাজার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া। অথচ এসব পরোয়ানা কার্যকর করার দায়িত্ব মাঠ পুলিশের।
জানা যায়, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৮০ হাজার আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা-হুলিয়া জারি করেছে আদালত। আসামিদের মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নারী-শিশু নির্যাতন, দস্যুতা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তা ছাড়া ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলার আসামিও আছে এ তালিকায়। কিন্তু পরোয়ানাভুক্ত এসব আসামি না ধরার পেছনে আসামিদের স্থান পরিবর্তন, নাম-পরিচয় ভুল এবং থানা পুলিশ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতার অভিযোগ আছে। আবার অনেক আসামি তদবির ও অর্থের বিনিময়েও গ্রেপ্তার এড়াতে পারছে। আর ফাইলবন্দি পরোয়ানার স্তূপ বাড়ছে।
তবে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সদর দপ্তর সবকটি ইউনিটপ্রধানদের বিশেষ বার্তা দিয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা বা হুলিয়া আছে, তাদের ধরতে না পারলে কারণসহ লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এর পাশাপাশি পুলিশের কোনো সদস্য বা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের অবহেলার তথ্য পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
জানা গেছে, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা’। আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধীকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বা তদন্তের স্বার্থে তা ইস্যু করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ পরোয়ানার কার্যকারিতা, অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ নিয়ে বিচার বিভাগ ও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সময় দেখা যায়, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই জারি করা পরোয়ানার কারণে নিরপরাধ ব্যক্তি দীর্ঘ সময় কারাভোগ করছেন। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়ার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন সিদ্দিকী রাগীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, সব হুলিয়াই পরোয়ানা কিন্তু সব পরোয়ানা হুলিয়া নয়। হুলিয়া হলো পরোয়ানার পরের ধাপ, পরোয়ানায় কাজ না হলে হুলিয়া জারি করে আদালত। পরোয়ানায় আসামির সম্পত্তি ক্রোক করা যায় না, আর হুলিয়ায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আসামির সম্পত্তি ক্রোক করা যায়। পরোয়ানার বিষয়টি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকে, আর হুলিয়া আসামির বাসস্থান বা জনসমাগমস্থলে সেঁটে দেওয়া হয় কিংবা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
পুলিশসংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত প্রায় ৮০ হাজার আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক বা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে হুলিয়াও রয়েছে। আসামি হাজিরের জন্য থানাগুলোতে জারি হওয়া পরোয়ানাগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশই বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। পলাতক থাকার প্রধান কারণগুলো হচ্ছেআসামির ঠিকানা পরিবর্তন ও নাম-পরিচয় শনাক্ত করতে না পারা। এ ছাড়া পুলিশের জনবল সংকট ও সদিচ্ছার অভাবও উল্লেখযোগ্য। থানাগুলোতে বিপুলসংখ্যক ওয়ারেন্ট ইস্যু থাকলেও সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নিয়মিত অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। পরোয়ানায় আসামির ঠিকানা ও নাম প্রায়ই ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকার কারণে তারা গা ঢাকা দিচ্ছে। অনেক সময় প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরে না। ফলে পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা এখন অনেকটাই ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সহিংসতা, নাশকতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের জের, হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের মামলার আসামিদের ধরা যাচ্ছে না নানা কারণে। আদালতের নির্দেশনুযায়ী, আসামিদের গ্রেপ্তারে বিষয়টি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে পুুলিশ সদর দপ্তরের।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকায় ৯০ ডাকাত চক্র’। খবরে বলা হয়, চুরি, ছিনতাই আর ডাকাতি রাজধানী ঢাকার যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। ব্যাংক কিংবা মানি এক্সচেঞ্জ থেকে বড় লেনদেন করলেই পিছু নিচ্ছে ডাকাত দলের সদস্যরা। এমনকি সোনার দোকান থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি সবকিছুতেই চলছে ডাকাতদের এক অদৃশ্য নজরদারি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই অপরাধে ১০-১৫টি মামলা থাকলেও দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে জামিন পেয়ে যাচ্ছে ডাকাত দলের সদস্যরা। জামিনের পর তারা আবারও বড় ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, শুধু রাজধানীতেই ৯০ সক্রিয় ডাকাত চক্রের সদস্যসংখ্যা ৯ শতাধিক। প্রতিটি চক্রের সদস্যসংখ্যা ৭-১৫ জন। কেউ ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুললে কিংবা মানি এক্সচেঞ্জ থেকে বড় লেনদেন করে বাইরে বের হওয়ার আগেই তথ্য চলে যায় চক্রের রেকি টিমের সদস্যদের কাছে। তারা টার্গেট ব্যক্তিকে ফলো করা শুরু করে। আর গাড়ি নিয়ে প্রস্তুত থাকা অপহরণ টিমের সদস্যদের তথ্য জানাতে থাকে। টার্গেট ব্যক্তি সুবিধাজনক জায়গায় গেলেই র্যাব অথবা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে গাড়িতে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে মারধর করে সব টাকা লুটে অপহরণের শিকার ব্যক্তিকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, প্রতিটি চক্রের সদস্যদের মধ্যে কারও না কারও মাইক্রোবাস থাকে। এগুলো রেজিস্ট্রেশন করা হয় স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে। মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা হয় না কোনো সিম কার্ড। যোগাযোগ করতে ব্যবহার হয় পকেট রাউটার। আগ্নেয়াস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পোশাকের মালিকও থাকে একজন। যখন কোনো ডাকাতি করা হয়, তখন লেনদেনকারী ব্যক্তির তথ্য দেওয়া এজেন্টের জন্য ৩০ শতাংশ, গাড়ি ভাড়া ৫০ হাজার, পোশাক ও অস্ত্র ভাড়ার ৫০-৬০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যার মামলা সংখ্যা বেশি, তাকে বেশি টাকা দেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, প্রতিটি চক্র সপ্তাহে দুই দিন ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হয়। তাদের প্রধান টার্গেট থাকে মতিঝিল, পল্টন ও উত্তরা এলাকা। যদি ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জকে কেন্দ্র করে কোনো টার্গেট নির্দিষ্ট করতে না পারে, তাহলে দ্বিতীয় টার্গেট হয়ে ওঠে সোনার দোকানে ডাকাতি অথবা নগদ বা বিকাশ ব্যবসায়ীদের অপহরণ। এতেও কোনো টার্গেট না মিললে মহাসড়কে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়ায় তারা। এসব চক্রে বেশির ভাগই বিভিন্ন বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সদস্য, গাড়ি চালক ও পেশাদার ছিনতাইকারী।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় র্যাব পরিচয়ে এক ব্যসায়ীকে অপহরণ করে ৬৫ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় রাসেল ও জুয়েল নামে ডাকাত চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার হয়। এ দুই ডাকাতের দেওয়া তথ্যে হতবাক হন তদন্তকারীরাই। সোর্সের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে গ্রেপ্তারের পর জামিন করাতে আইনজীবী ঠিক করতে আলাদা আলাদা লোক আছে তাদের। ঘটনাটির তদন্তকারী সূত্র জানায়, রাসেল ১৮ মামলার আসামি। যার মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলা, অন্যগুলো ছিনতাই ও ডাকাতি মামলা। এই রাসেল এক সাধারণ গাড়ি চালক থেকে হয়ে উঠেছে দুর্ধর্ষ ডাকাত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ডিবিকে জানায়, একবার ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে এক ডাকাত দল তাকে ভাড়া করে। অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় এবং ২-৩টি ঘটনার পর কৌশল রপ্ত হয়ে যাওয়ায় নিজেই হয়ে যায় পেশাদার ডাকাত। গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েলের পাসপোর্টে নাম রাশেদুল ইসলাম। অবস্থা বেগতিক দেখলে কিছুদিন দেশের বাইরেও থাকত সে। আর জুয়েলের নামে রয়েছে ১৭ মামলা। স্ত্রী মীনা বেগমের নামে দুটি গাড়ি কিনে সেগুলো ডাকাতির কাজে ভাড়া দিত। ডাকাতির সময় নিজেও সঙ্গে থাকত। ৬৫ লাখ টাকা ডাকাতিতে তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা এক্স-নোয়াহ (ঢাকা মেট্রো চ-১৫-৯৬২৯) গাড়ি ব্যবহার করা হয়। ডিবিকে আরও জানিয়েছে, ৬৫ লাখ ডাকাতির ঘটনার দিন গত ২৫ এপ্রিল ব্যবসায়ী সালমান মাহবুব জয় মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় নিয়ন মানি এক্সচেঞ্জ, বিনিময় মানি এক্সচেঞ্জে একাধিকবার যান। কিন্তু থাই বাথের রেট সুবিধাজনক না হওয়ায় উত্তরার জামান মানি এক্সচেঞ্জে যোগাযোগ করে মেট্রোরেলে রওনা দেন। নিয়ন মানি এক্সচেঞ্জ থেকে তাকে ডাকাত দলের চারজন অনুসরণ শুরু করে। চক্রের অন্য সাত সদস্য তখন বিজয়নগরে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। অনুসরণ করা চারজনের তথ্য মতে, গাড়ি নিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে উত্তরা যায় সাতজন। আর ওই ব্যবসায়ী মেট্রোরেল থেকে দিয়াবাড়িতে নেমে রিকশা নেন। এরই মধ্যে গাড়ির নম্বর প্লেট পরিবর্তন করে ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা লুট করা হয়। ডিবি জানিয়েছে, এ চক্রের সদস্য ১২ জন। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত আশিক ও পুলিশ থেকে চাকরিচ্যুত শাহিন নামে দুজন রয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়। নিয়মিত অভিযানেও অনেক ডাকাত ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সমস্যা হচ্ছে, ডাকাত দলের সদস্যরা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে ঘটনা ঘটিয়ে চলে যায়। এজন্য তাদের গ্রেপ্তারে অনেক সময় বেগ পেতে হয়।
