সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদের ইন্তেকাল

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদের ইন্তেকাল

ফন্ট সাইজ:

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ আর নেই। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর নামাজে জানাজা শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম ক্বারী মো. আবু রায়হান। জানাজার শুরুতে মরহুম হারুন অর রশীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুব। পরে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন। এ ছাড়া জানাজায় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানাজায় উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, হারুন অর রশীদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অমায়িক, সজ্জন সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।

তিনি বলেন, হারুন অর রশীদ দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিরাবের প্রতি সমবেদনা জানান।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন অর রশীদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে হারুন অর রশীদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

জানাজা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি’র পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া ও কর্মকর্তারা মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন সমাজকল্যাণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে চিফ হুইপ, পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে প্রথমে ত্রাণ ও পরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় সরকারের সময় তিনি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী হারুন অর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেডক্রিসেন্ট, ক্রীড়া সংস্থা, আইনজীবী সমিতি এবং জেলা বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

জেলা বিএনপি’র আরেক সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন রিপন জানান, আলহাজ এডভোকেট হারুন অর রশীদ বিএনপি গঠনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা বিএনপি’র প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন। এরপর থেকে তিনি জেলা বিএনপি’র মূল অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৯ সালে পুনরায় তিনি জেলা বিএনপি সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০১৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হারুন অর রশীদের জন্ম ১৯৩৯ সালে। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ও ১ কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন