চুক্তিতে ইরানের হাতে ‘ক্যাশ ফ্লো’, যুক্তরাষ্ট্রে বিভাজন

চুক্তিতে ইরানের হাতে ‘ক্যাশ ফ্লো’, যুক্তরাষ্ট্রে বিভাজন

ফন্ট সাইজ:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেশেজকিয়ান উভয় দেশের পক্ষে এই স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তির পর উভয় পক্ষই বিজয় দাবি করেছেন।

তবে ট্রাম্পের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী ড্যান ব্রুইলেট বলেছেন, এই সমঝোতা স্মারক তেহরানের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। সিএনএনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ দফা এই সমঝোতা স্মারক ইরানকে তার অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার সুযোগ দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি বিক্রি পুনরায় শুরু করা।

ব্রুইলেট ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রথম শাসনামলে জ্বালানি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, এটি তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।

ব্রুইলেট উল্লেখ করেন, পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে দেশটিকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করেছে।

ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাবেক এই মার্কিন মন্ত্রী বলেন, দেশটিতে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশেরও বেশি, বেকারত্ব ব্যাপক এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি রয়েছে।

তার ভাষায়, ইরানের জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়া দরকার। অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য তাদের অবকাঠামো পুনর্গঠন প্রয়োজন।

অতিরিক্ত উদার চুক্তি নিয়ে সমালোচনা
এই সমঝোতা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এটিকে ‘তোষামোদমূলক’ বলে সমালোচনা করেছেন। সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে “দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পররাষ্ট্র নীতি ভুল” বলে মন্তব্য করেছেন।

ব্রুইলেট নিজেও এই চুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, চুক্তিটি ইরানকে কিছু সুবিধা ‘অগ্রিম’ দেয়ার কারণে কিছুটা অতিরিক্ত উদার হয়ে গেছে। এর মধ্যে ইরানকে তাৎক্ষণিকভাবে তেল বিক্রির অনুমতি দেয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তার অনুমান, এতে ইরান বছরে প্রায় ৬০০০ কোটি ডলার আয় করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে ইরান তার অর্থনৈতিক সম্পদ ব্যবহার করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ‘প্রক্সি’ গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করেছে। ভবিষ্যতেও যদি এমন প্রবণতা ফিরে আসে, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।

ব্রুইলেট বলেন, তারা যদি আবার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন শুরু করে, তাহলে আমরা সব কিছু পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হব।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স বলেছেন, এই চুক্তি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক; ইরানের আচরণ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা পুনর্বহাল করা হবে।

তবে ব্রুইলেট বলেন, তিনি হলে চুক্তির কিছু ধাপে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং ইরান আগে বাস্তব অগ্রগতি দেখালে তবেই অর্থনৈতিক সুবিধা দিতেন।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন