আমি আগে নেহাতই এক সাদামাটা ছিঁচকে চোর ছিলাম।
রাতের বেলা তার কেটে দুই টাকার বিদ্যুৎ চুরি,
ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন থেকে দুই বস্তা ত্রাণের চাল,
আর বড়জোর গ্রামের রাস্তার কালভার্টের রড গায়েব করা।
এতেই আমার দিব্যি দিন কেটে যাচ্ছিল।
কিন্তু আজকাল দেখছি, দেশে ছোট চোরদের কোনো ইজ্জত নাই।
বাসে কারো মানিব্যাগ মারলে পাবলিক ধরে আচ্ছামতো ধোলাই দেয়,
যেন আমি একাই দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়েছি!
অথচ যেই নেতা আস্ত একটা ব্যাংক গিলে ছিবড়ে করে দিল,
কানাডার বেগম পাড়ায় বউয়ের নামে ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনল,
কাল দেখলাম জেলা সদরে তাকেই বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
তার গাড়ির সামনে-পেছনে সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের প্রটোকল!
এসব দেখে-শুনে আমার আত্মসম্মানে বড্ড আঘাত লেগেছে।
আমি ঠিক করেছি, আর এই খুচরো চুরি-চামারি নয়।
আমি এবার চোর থেকে একেবারে ‘পলিটিক্যাল ডাকাত’ হয়ে যাব!
মুখে আর চোরের মতো কালো কাপড় বাঁধব না,
গায়ে একটা ধবধবে সাদা সিল্কের পাঞ্জাবি আর চোখে কালো চশমা পরব,
হাতে কোনো বাতিল ছাতার বাঁট নয়, নেব লেটেস্ট মডেলের আইফোন।
স্টেজে দাঁড়িয়ে মাইক ফাটিয়ে বল ‘ভাইসব, আমি আপনাদেরই সেবক!’
তারপর আর রাতের অন্ধকারে কারো পকেট হাতড়াব না,
সরাসরি মেগা প্রজেক্টের টেন্ডার বাগাব,
আর খেলাপি ঋণের নামে হাজার কোটি টাকা লোপাট করে
দুবাইয়ে আরামসে ছুটি কাটাতে যাব।
খবরের কাগজে তখন অন্তত ‘বিশিষ্ট সমাজসেবক’ হিসেবে প্রথম পাতায় ছবি তো উঠবে!
টিভির টকশোতে আমাকে ডাকা হবে দেশের অর্থনীতি নিয়ে জ্ঞান দেওয়ার জন্য,
আর লোকে সসম্ভ্রমে বলবে ‘উনি আর যাই হোন, ছিঁচকে চোর নন,
একেবারে ভিআইপি ডাকাত!’
‘আমি চোর থেকে ডাকাত হয়ে যাব’
আবু জুবায়ের
বিবিধ
২ দিন আগে
১৮ জুন (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ৪৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

পারভেজ
২ দিন আগেঠিক আছে, কিন্তু ডাকাত সমিতির সদস্য হতে হবে যার নিয়ম হলো একে অন্যকে মাফ করে দিতে হবে