অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেয়ার কথা বলে এক ওমান প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার নীলফামারী জেলায় অভিযান চালিয়ে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন ও ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ রাকিবুল হোসেন, রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী। বৃহস্পতিবার সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী একজন ওমান প্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। যোগাযোগকারী পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধুও এ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে কথিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিভিন্ন প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করে। প্রথম ধাপে সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে আরও অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতারক চক্র একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও সরবরাহ করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’সহ অন্যান্য যোগাযোগকারীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাগ্নে বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃত রনি ইসলাম নিজেকে ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ চালাতো। পেজটিতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসন সংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিওসহ প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে আসছিল।
একইসঙ্গে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়। তিনি বলেন, তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতো। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে পাওয়া তথ্য প্রযুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাকিবুল হোসেন ও রনিকে গ্রেপ্তার করে সিপিসি।
