পটুয়াখালীর গলাচিপার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া কামারখালী এলাকার একটি ভাঙা বাঁধ এখন কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য কাটা বাঁধের স্থান দিয়েই বর্তমানে প্রতিদিন দুই দফা জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। এতে অন্তত ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৫ সালের আগস্টে অতিবৃষ্টির কারণে ফসলি জমিতে পানি জমে গেলে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সড়ক কেটে দেন। এতে সাময়িকভাবে জমে থাকা পানি নেমে গেলেও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ তৈরি হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার বরাদ্দে সড়কটি সংস্কার করা হয়। তবে এলাকাবাসীর দাবি, ওই সময় থেকে নতুন সংকটের শুরু। প্রায় দুই মাস আগে একটি ট্রলি রাস্তার ওই অংশে আটকে পড়লে পানির তীব্র চাপে সড়কের অংশটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই জোয়ারের পানি অবাধে প্রবেশ করে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করছে। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, পুকুর, মাছের ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তা কাটার পর থেকেই সমস্যার শুরু। এখন দিনে দুইবার জোয়ারের পানি ঢুকে পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যায়। আমরা চরম দুর্ভোগে আছি।
এদিকে একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোনখোলা গ্রামের কালু হাওলাদারের বাঁধও এক সপ্তাহ আগে ভেঙে যায়। এতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা করলেও তা টেকসই হয়নি। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা জানান, জোয়ারের পানিতে পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যাচ্ছে। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার করা না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত টেকসই উপায়ে ভাঙা বাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে জোয়ারের পানির কবল থেকে এলাকাকে রক্ষা করা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
