সাতকানিয়ায় চেয়ারম্যান পদের পুনর্বহাল নিয়ে জটিলতা

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৭নং সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দীনকে চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দেয়া নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের দেখা মিলেছে। বুধবার স্থানীয় জনতা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ছাত্র প্রতিনিধিরা ইউএনওকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে জসিম উদ্দীনকে স্বৈরাচারের দোসর ও ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক মামলার আসামি উল্লেখ করে তার চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাহারের আবেদন জানান।
স্থানীয় জনতা ও একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে বলেন, জসিমের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়াটা এলাকার জন্য কখনো ভালো বিষয় নয়। সে নৌকার চেয়ারম্যান থাকাকালীন এলাকাবাসীর ওপর অত্যাচার করেছে যা মানুষ এখনো ভোলেনি। এ ছাড়াও এলাকায় জনসমর্থন না থাকার ফলে সে পরিষদে এসে অফিস করতে পারবে না। যার জন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে জনগণকে।

এর আগে গত ১৬ই এপ্রিল উচ্চ আদালতে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন জসিম উদ্দীন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৭ই মে আদালত তাকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তার চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতা ও জেলা প্রশাসকের চিঠির প্রেক্ষিতে গত ১১ই জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে চেয়ারম্যান পদে থেকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে ইউএনও’র প্রজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, আমাকে যখন দায়িত্ব দেয়া হয় তখন একটি অফিস আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু কোনো প্রকার অফিস আদেশ ও অব্যাহতিপত্র ছাড়া একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে অফিস আদেশের পর চট্টগ্রামে গিয়ে গোপনে পরিষদের নথিপত্রে জসিম উদ্দীনের স্বাক্ষর নিয়েছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিউটন চক্রবর্তী। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। এ বিষয়ে তিনদিন নিয়মিত পরিষদে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে বলেন, হয়তো চেয়ারম্যান এসে স্বাক্ষর করে গেছেন। তবে পরিষদের উদ্যোক্তা বলেন, কে স্বাক্ষর করেছে বিষয়টি দেখিনি। আমাকে কাগজগুলো এনে দিয়েছেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত আমাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা বা রিপোর্ট চায়নি। আদালত সরাসরি নির্দেশ পালন করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। আদালত যখন কোনো আদেশ দেন তখন পূর্ববর্তী সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আদালতের আদেশের সঙ্গে সঙ্গে জসিম উদ্দীনের পদ বহাল হয়ে গেছে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ স্থগিত হয়ে গেছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন