কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী

ফন্ট সাইজ:

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আটটি কলেজ থেকে একজনও অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে চারটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশনই করেনি। অন্য চারটি কলেজে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন।

অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারা আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলার নোবেল কলেজ, কুমিল্লা জেলার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, এ বছর বোর্ডের অধীনে ছয় জেলার ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে আটটি প্রতিষ্ঠানে স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারছে না। এ ছাড়া, গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাসের হার থাকা ১৩টি কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। এ বছরও ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি নারী শিক্ষার অগ্রগতির ইতিবাচক দিক হলেও ছাত্রদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সালে কলেজ শাখা চালু হওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসছে। এ বছর ভর্তি হওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীও পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
পাশাপাশি আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব কলেজে কোনো পরীক্ষার্থী নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি এবং এর কারণগুলো আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রয়োজন হলে মানোন্নয়ন কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন