সৌদি আরবে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নারানপুর এলাকার তৈয়ব আলী মোল্লা নামে এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, মৃত্যুর ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তার লাশ পৌঁছেনি পরিবারের কাছে। এদিকে তৈয়বের বাড়িতে চলছে স্ত্রী-স্বজনদের আহাজারি। তারা দ্রুত লাশ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন। জানা যায়, তৈয়ব মোল্লা ৩ বছর ধরে সৌদি আরব থাকেন। গত ১২ই জুন সৌদি আরবের তামাম্মা শহরের রিয়াদ হাসপাতালে কিডনি ও লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর সৌদি আরবে বসবাসকারী নিকটাত্মীয় কেউ না থাকায় তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তৈয়ব মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারানপুর এলাকার মৃত আলিম মোল্লার ছেলে। তৈয়ব আলী মোল্লার স্ত্রী বিউটি বেগম মানবজমিনকে বলেন, অভাবের সংসারে দু’-মুঠো খাবার জোগাড় করতে ৩টি কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে রেখে ধারদেনা করে পরিবারের সদস্যদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে ৩ বছর ধরে প্রবাস জীবন পার করছিলেন তৈয়ব। সে সৌদি আরবের তাম্মামা শহরে কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন। হঠাৎ করে সে কিডনি ও লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হন। পরে রিয়াদ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হচ্ছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও আমার স্বামীর লাশ দেশে আসেনি। স্বামীকে এক নজর দেখার জন্য প্রচণ্ড ব্যাকুল স্ত্রী-সন্তান ও তার পরিবারের সদস্যরা। নিহতের ভাই বাবুল মোল্লা বলেন, তৈয়বের দ্বিতীয় কন্যা বিথি সুলতানার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এবার ছুটিতে দেশে ফিরেই আনন্দ উল্লাস ও ধুমধাম করে নিজের কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কন্যাকে তুলে দেবে তার জামাতার হাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে পরপারে পাড়ি জমাতে হলো। অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে পুরো পরিবারই আজ দিশাহারা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হয়ে গেল। সরজমিন দেখা যায় তৈয়বের লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য তার বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও তিন সন্তান অপেক্ষায় আছেন। তারা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারে এখন অন্ধকার ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী মানবজমিনকে বলেন, তৈয়ব যদি বৈধ পথে সৌদি আরব গিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে বিনাখরচে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ নিয়ম অনুযায়ী সরকারিভাবে সকল ব্যবস্থা করা হবে।
