৬ মাস বয়সী শিশুসহ ছয়জনের টানা ৪ দিন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

কুড়িগ্রামে বিএসএফ-এর পুশইন চেষ্টা

৬ মাস বয়সী শিশুসহ ছয়জনের টানা ৪ দিন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

ফন্ট সাইজ:

খোলা আকাশের নিচে তীব্র রোদ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে অবস্থান করছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর পুশইন চেষ্টার শিকার ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ ছয়জন। টানা ৪ দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালেও তাদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, গত রোববার সকালে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি বাধা দেয়। কিন্তু বিএসএফ-এর এই পুশইন চেষ্টার ফলে ৬ মাসের এক শিশুসহ দুই শিশু, এক নারী ও তিন পুরুষ শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। একই দিনে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৩ যুবককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার মুখে তারা ভারতের ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন।
সরজমিনে দেখা যায়, পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের দেখতে প্রতিদিনই সীমান্ত এলাকায় ভিড় করছেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু। নিষ্পাপ শিশুকে আটকে রাখা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। পুশইনের শিকার ৬ জনকে ১০৬০ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে এক ফাঁকা স্থানে রাখা হয়েছে। এক পাশে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া, ঝালুর চর ও বিএসএফ ক্যাম্প। অন্য পাশে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি খাল। আশপাশে নেই কোনো বসতবাড়ি, দোকানপাট। নেই কোনো সহায়তার সুযোগ। তাদের অবস্থান ঘিরে একদিকে বিএসএফ এবং অন্যদিকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতি টানা চারদিন ধরে চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সেখানে নেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল কিংবা স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। অধিকাংশ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীর দেয়া বিস্কুট ও সামান্য খাদ্যসামগ্রীই তাদের ভরসা। বিশেষ করে শিশু দু’টির অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, তারা টানা ৪ দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। শিশুদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনি টাঙানোর ব্যবস্থা করা হয়। তার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন এক দম্পতি। তাদের কোলে রয়েছে ৬ মাস বয়সী শিশুসহ থেকে তিন বছর বয়সী আরেক সন্তান। একই স্থানে অবস্থান করছেন আরও দুই যুবক। এর আগে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দিন কাটাতে হয়েছে তাদের।

গয়টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, ‘শিশুটি তো কোনো অপরাধ করেনি। তাহলে কেন তাকে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে কষ্ট পেতে হবে। আমরা দ্রুত এ ঘটনার সমাধান চাই। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক মহলেরও হস্তক্ষেপ দরকার।’
জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিজিবির পক্ষ থেকে আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
গয়টাপাড়া বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার মাসুদ রানা বলেন, ‘যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন