সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

ক্লাস চলাকালে খসে পড়লো স্কুলের ছাদের পলেস্তারা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

ফন্ট সাইজ:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্লাস চলাকালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ৩০ জন শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের নতুন বাবুপাড়াস্থ কয়া নং-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিফতাউল জান্নাত তাকওয়া নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়। এসময় ক্লাসে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসে তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

খবর পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই বিদ্যালয়ের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিংয়ের শ্রেণিকক্ষ দু’টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালা লাগিয়ে দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান। কয়া নং-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সূত্র জানায়, ওই বিদ্যালয়ের একতলা পুরোনো ভবনের দু’টি রুমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান করা হয়। ঘটনার সময় দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ক্লাস চলছিল। ওই ক্লাসে ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল।

শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার। তিনি বলেন, ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করে ছাদের বিভিন্ন অংশে পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয় এবং তারা কান্নাকাটি করতে থাকে। শ্রেণিকক্ষের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনার পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ওই শ্রেণিকক্ষের ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল এবং পলেস্তারা খসানো। ভবনের পিলারও ভাঙা। সবমিলিয়ে ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাদিরা আক্তার বানু বলেন, ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই বিদ্যালয়ে কয়েক শত শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।

এরমধ্যে পুরোনো একতলা বিশিষ্ট ওই ভবনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নেয়া হয়। সেখানে যোগদানের পর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মৌখিকভাবে জানানো হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জরাজীর্ণ ওই ভবনে ক্লাস চালানো ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়। এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভবনটি বিপজ্জনক হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে পরামর্শ করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন